উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে বাংলার রাজনীতিতে এক বড়সড় ‘বোমা’ ফাটালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার জনসভা থেকে তাঁর দাবি, ফলপ্রকাশের পর দেখা যাবে বাংলার বেশ কিছু জেলা আস্ত ‘তৃণমূল শূন্য’ হয়ে গিয়েছে। প্রথম দফার ভোটের ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক ভবিষ্যদ্বাণী শাসক শিবিরের অন্দরে যে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে, তা রাজনৈতিক মহলের চর্চায় উঠে এসেছে।
বেলদার ভিড়ে ঠাসা ময়দান থেকে মোদী এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলছে বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের (Political Transformation) সংকল্প নিয়ে ফেলেছেন। সাধারণত মোদী নির্বাচনের ফল নিয়ে আগাম সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাসী নন, তবে এদিন সেই প্রথা ভেঙে তিনি দাবি করেন, “রাজ্যের কিছু কিছু জেলায় তৃণমূল একজনও বিধায়ক পাবে না। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগই বলে দিচ্ছে যে ৪ মে-র পর বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন অনিবার্য।”


প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘নারী শক্তি’। তৃণমূলকে ‘মহিলা-বিরোধী’ তকমা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের (Women Reservation Bill) ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তৃণমূল সেই আইন পাসের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর দাবি, শাসক দল আসলে ভয় পাচ্ছে যে সাধারণ ঘরের মেয়েরা সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে তাদের দুর্নীতির হিসাব চাইবে। এই ভয় থেকেই তৃণমূল মা-বোনেদের রাজনৈতিক অগ্রগতির গলা টিপে ধরতে চাইছে বলে তিনি সরব হন।
প্রচার মঞ্চে মোদী আবারও তাঁর বহুল চর্চিত ‘মোদী গ্যারান্টি’-র ওপর জোর দেন। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, “মোদী যে গ্যারান্টি দেয়, তা পূরণ হওয়ার গ্যারান্টি। আমার কাছে আপনারা প্রত্যেকেই একেকজন মোদী।” উপস্থিত জনতার প্রতি তাঁর আহ্বান, তাঁরা যেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নয়নের এই বার্তা পৌঁছে দেন। মোদী এদিন সরাসরি তোপ দাগেন সিন্ডিকেট রাজ ও তোষণ রাজনীতির বিরুদ্ধেও। তাঁর মতে, বাংলার মেধা ও উন্নয়ন বছরের পর বছর থমকে আছে শুধুমাত্র শাসক দলের সংকীর্ণ রাজনীতির কারণে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মে-র ফলাফলে যদি মোদীর এই ‘জেলা-শূন্য’ সমীকরণ সত্যি হয়, তবে তা হবে বাংলার রাজনীতির এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। এর আগে রাজ্যে পালাবদল হলেও আস্ত জেলা বিরোধীহীন হয়ে পড়ার নজির বিশেষ নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ একদিকে যেমন বিজেপি কর্মীদের অক্সিজেন জুগিয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে বড়সড় ফাটল ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রথম দফার ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মোদীর এই ‘ম্যারাথন প্রচার’ শেষ পর্যন্ত ইভিএমে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে বেলদার মাঠ থেকে মোদী যে বার্তাটুকু দিলেন, তাতে স্পষ্ট যে দিল্লির মসনদ এবার বাংলার ‘পরিবর্তনের’ লড়াইয়ে কোনো খামতি রাখতে নারাজ।

