উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের লোকসভায় নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হলো ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল (Nari Shakti Vandan Adhiniyam)। বৃহস্পতিবার লোকসভায় এই বিলটি নিয়ে বক্তব্য পেশ করার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) যেমন একদিকে আবেগে ভাসলেন, তেমনই অন্যদিকে বিলটি বাস্তবায়নে তিন দশকের বিলম্ব নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করলেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই দূরদর্শী পদক্ষেপটি যদি আরও ৩০ বছর আগে নেওয়া হতো, তবে আজকের ভারত এক অন্য উচ্চতায় অবস্থান করত।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতেই বলেন, “এই ভাবনা আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগেই বাস্তবায়িত হওয়া উচিত ছিল।” তিনি মনে করেন, নব্বইয়ের দশকে যখন প্রথমবার এই বিল (Women’s Reservation Bill) নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল, তখনই যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকত, তবে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র আজ অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হতো। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলে দেশের নারীরা যে দীর্ঘ প্রতীক্ষার শিকার হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সেই বঞ্চনার ইতিহাসকেই তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, বিলটি কেবল আইনি সংস্কার নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের সামাজিক অবিচার সংশোধনের একটি প্রক্রিয়া।


লোকসভার অধিবেশনে এই বিলটিকে ভারতের সংসদীয় ইতিহাসের এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একটি জাতির জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন নেতৃত্বের নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত দেশের স্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হয়। এই বিলটি ঠিক তেমনই এক উত্তরাধিকার তৈরি করবে।” মোদির মতে, ভারতের নারী শক্তিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া মানে দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই বিলের সুফল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ঘরে যাবে না, বরং এর ফলে ভারতের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।
ভাষণ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিতেও দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল এই বিলের বিরোধিতা করেছিল। তিনি বলেন, “ভোটের সময় যাঁরা এর বিরোধিতা করেছেন, দেশের মানুষ তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন।” তবে রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে তিনি একে গোটা দেশের জয় হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “এটা কোনও একটি দলের জয় নয়। এটা গোটা ভারতের সাফল্য। মহিলা সংরক্ষণ বিলে রাজনীতির রং লাগানোর কোনও প্রয়োজন নেই।” প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, যারা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, তারা জনমানসে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এখন সময় এসেছে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নারী শক্তির বন্দনা করার। বক্তব্যের শেষে তিনি সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, এটি আমাদের সকলের মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ৩ শতাংশ আসনের সংরক্ষণ নয়, বরং দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার পূর্ণ মর্যাদা নিশ্চিত করাই এই বিলের মূল লক্ষ্য।

