উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী যখন বলতে ওঠেন, তখন কক্ষজুড়ে বিরোধীদের স্লোগান তুঙ্গে। কিন্তু সেই উত্তাল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করেই আক্রমণের সুর বাঁধেন মোদি। বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়গেকে খোঁচা দিয়ে শুরু করে শেষমেশ তাঁর নিশানায় উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
১. খড়গেকে বয়স-বাণ ও বিরোধীদের ওয়াক-আউট
প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শুরু করতেই বিরোধীরা হইহট্টগোল শুরু করেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গেকে উদ্দেশ্য করে মোদি বলেন, “আপনার বয়সের কথা ভেবে বলছি, আপনি বরং বসেই স্লোগান দিন।” এর কিছুক্ষণ পরেই যখন বিরোধী সাংসদরা কক্ষত্যাগ (ওয়াক-আউট) করতে শুরু করেন, তখন প্রধানমন্ত্রী টিপ্পনী কেটে বলেন, “দেখছি অনেকেই এখনই হাঁপিয়ে উঠেছেন! পালিয়ে লাভ নেই, আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।”
২. কংগ্রেসের ‘দূরদৃষ্টি’ বনাম মোদি জমানার ‘ভুল সংশোধন’
কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালকে কাঠগড়ায় তুলে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন:
• লালকেল্লা থেকে প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীদের ভাষণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তাঁদের কোনও সুদূরপ্রসারী দূরদৃষ্টি (Vision) ছিল না।
• কংগ্রেসের করে যাওয়া ‘ভুল’ শোধরাতেই বর্তমান সরকারের শক্তির বড় অংশ ব্যয় হয়েছে।
• দেশ এখন কোনও ব্যক্তির ইচ্ছায় নয়, বরং নির্দিষ্ট নীতির (Policy) ভিত্তিতে চলছে।
৩. বাংলার অনুপ্রবেশ ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ
ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ। তৃণমূল সরকারকে ‘নির্মম সরকার’ বলে অভিহিত করে মোদি অভিযোগ করেন: “নির্মমতার যত রেকর্ড ছিল, সব এই সরকার ভেঙে দিয়েছে। বাংলার মানুষের ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে।”
অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধে তিনি বলেন:
• সারা পৃথিবী যখন অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে ব্যস্ত, তখন তৃণমূল সরকার তাদের বাঁচাতে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে।
• এই অনুপ্রবেশকারীরাই বাংলার আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিচ্ছে এবং যুব প্রজন্মের কর্মসংস্থান নষ্ট করছে।
• অথচ এসব নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ না নিয়ে উলটে কেন্দ্রকে ‘উপদেশ’ দিচ্ছে বাংলার শাসক দল।

