উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের একবার উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করল বিজেপি। রবিবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক মেগা জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে আঁতাতের গুরুতর অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Siliguri Rally)। শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র নিয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিজেপির কাছে শিলিগুড়ি করিডর দেশের সুরক্ষা ও সমৃদ্ধির অন্যতম স্তম্ভ।
এদিনের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে একটি ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ সক্রিয় রয়েছে। সেই গ্যাং একসময় শিলিগুড়ি করিডর কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তৃণমূল কংগ্রেস সেইসব লোকজনকে রাস্তা থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত সমর্থন জোগায়। এটাই ওদের আসল চেহারা।” তিনি আরও যোগ করেন, বিজেপি সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে এই করিডরের সুরক্ষা ও পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য।


তৃণমূলের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক নীতির সমালোচনা করে মোদী বলেন, “উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের নীতি হলো উপেক্ষা আর ভয় দেখানো। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আর এই সংস্কৃতি সহ্য করবে না।” আসন্ন নির্বাচনের ফলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “৪ মে-র পর যখন নতুন সরকার আসবে, তখন সব বদলে যাবে। অনেক হয়েছে, আর ভয় নয়, এবার ভরসা চাই। এটাই বিজেপির মন্ত্র।” পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, লুটেরাদের সব হিসাব দিতে হবে।
শনিবারই পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে সভা সেরেছেন মোদি। রবিবারের শিলিগুড়ির সভা থেকে তিনি উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাবাবেগ এবং নিরাপত্তার দিকটিকে সরাসরি স্পর্শ করার চেষ্টা করলেন। গত নির্বাচনগুলিতে উত্তরবঙ্গে বিজেপির ফল আশাব্যঞ্জক হওয়ায়, এই গড় ধরে রাখতে মোদির প্রচারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

