কবিতা

শেষ আপডেট:

নিকোটিন 

প্রাণেশ পাল 

ছাইচাপা বিক্ষত আসক্তি, নিষিদ্ধ মোহ

শিরা উপশিরায় জায়মান উপস্থিতি

অসম্পৃক্ত হিমোগ্লোবিন, অবরুদ্ধ চিন্তন মনন

সম্পৃক্ততার আশায় ব্রহ্ম চেতনায় মিশে যাও

পিটুইটারি জুড়ে আবিল উন্মাদনা…

তারপর চলে যাওয়া বসন্ত

ঝরে পড়ে শীতের প্রলম্বিত রুক্ষতা

অথচ ফুসফুসের কালো রেখাজুড়ে

স্মৃতিদের অম্লান জীবাশ্ম…

তবুও শ্বাসকষ্ট বুকে চেপে

নিকোটিনে পুড়ে যাই বারবার…

তুমি কিন্তু কিছুই দ্যাখোনি

শঙ্খ  চট্টোপাধ্যায়  

বাণিজ্যনগরী থেকে দিস ইজ শঙ্খ, রিপোর্টিং স্যর, সাততলা থেকে পড়ে এইমাত্র যে মারা গেল, কোমরের দড়ি ছিঁড়ে, দেওয়াল রং করার সময়, যে একটু আগেও শূন্য থেকে দুলছিল, পাগল পেন্ডুলামের মতো, বিপজ্জনকভাবে হাতের ব্রাশটা এলোমেলো হাওয়ায় নাড়ছিল, সে কোনোদিন হাওয়ার স্রোত কেটে তীব্রভাবে নেমে আসা শ্যেনের তীক্ষ্ণ ঠোঁট চোখে দেখেনি, সে কোনোদিন ভাবেনি তার সামান্য বাড়তির স্বপ্নের বহু বহুগুণ অর্থ অন্তর্বাসে গুঁজে উল্টোদিকের ফুটপাথ ধরে সারে সারে হেঁটে যাবে নগ্ন বৈভব! সাততলার দেওয়াল থেকে সটান বাঁধানো চাতালে সে যখন পড়ল, তখনও তার মুখটা হাসিহাসি লাগছিল, ম্যাডাম, রক্ত-টক্ত, বিকৃত মুখ-টুখ, এসব অতিরেক, ঐ তো ছেঁড়া দড়িজুড়ে অট্টালিকায় চড়বার জন্য এসে দাঁড়িয়েছে আরেকজন অতিমানব, ঐ তো কাছেই কোথাও সমুদ্রের শরীরে তৈরি হচ্ছে নতুন উল্লোল!

দিগন্তে তাকাই
দীপায়ন ভট্টাচার্য

আশ্চর্য— এ-ও এক রোদমাতানো সকাল
জনবিরল আলপথ ডিঙিয়ে এসেছি
সুটুঙ্গার নাও নামিয়ে দিয়েছে এখন
মানসাইয়ের ওপারের চরে
ভিড়াক্কার বাস ওই তো ঠেসেঠুসে হাই তুলছে
ওই ভিড় আলাদা স্নিগ্ধ নজরে কাউকে দেখে না

দু’চার কলি গান গাইবার ফুরসতও নেই তো
কালচে তেল যেন লোগো হয়ে লেগে আছে তার।

আর এখান থেকেই
দূরগামী তিতিরপাখির ডানার ছায়া খুঁজি আমি
দূর হয়ে যাওয়া সন্ধ্যারাগ হাতড়াই
লেবুগাছের নীচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিহিম খুঁজি
কিংবা কিশোরী তিস্তার ঢেউভাঙা মন্দিরা
কানে জড়িয়ে নিয়ে প্যারেড করতে চাই

এক  দিগন্তের আশ্লেষ থেকে
আরেক দিগন্তের ঠিকরে পড়া আলো-সরণিতে।

পয়লা বৈশাখ

অমিতকুমার সরকার

(১)

আজ নতুন বছরের নতুন দিনে নতুন আশা প্রভাতী সূর্যোদয়ে,

নবরূপে দীপ্ত রবি-সুখ-শান্তি-সফলতার বার্তা স্নিগ্ধ কিরণে।

ঋতুচক্রে পুরনো বছরের সবকিছুই উধায় হয়েছে ইতিহাস,

শঙ্খধ্বনিতে, সিদ্ধিদাতার আরাধনায় এনেছে আশা, আকাঙ্ক্ষা, আশ্বাস।

প্রথম দিনের প্রথম সংখ্যা গণিতে প্রাইম নম্বর-একেই ঈশ্বর,

দুয়ারে দাঁড়িয়ে পয়লা বৈশাখ বরণে মঙ্গলঘট, ছড়াছড়ি আলপনার।

ভোরের আলোর সাত রঙের পবিত্র রশ্মি তরঙ্গে স্নাত আমরা-ক’জন,

পূর্ণ বাঙালিয়ানায় নববর্ষকে সবাই মিলে করি আলিঙ্গন।

(২)

উত্তরের সবুজ বনানীর-পাখিদের কলতানে চা’য়ের কচি পাতা দোলে,

ভৈরব-ঠাট, প্রভাতী কীর্তন, ভাওয়াইয়ার সুরে মন-মেতেছে ঝুমুরের নাচে।

বৈশাখীর প্রথম দিনে-আমরা বিভোর মানবিক চেতনাতে,

মনুষ্যত্বের মহামিলনে আমরা রাঙাব আজ পুণ্য প্রভাতে।

সূর্যের স্নিগ্ধ আলোকরশ্মি তরঙ্গে স্পন্দিত শান্তি সৌভ্রাতৃত্বের বার্তাতে,

ভোরের আলোয় আমরা ক’জন জানাই শ্রদ্ধা-শুভেচ্ছা-সম্মান বঙ্গবাসীকে।

উলট পুরাণ

পিনাকী সরকার

সাত সকালে হারুকাকা

বলল হেসে হেসে,

গ্রীষ্ম বুঝি এসে গেছে

ঠান্ডা কেন দেশে?

হারু কাকার কথা শুনে

চমক লাগে প্রাণে,

এবার বুঝি খুঁজতে হবে

হিম শীতলের মানে!

চৈত্র শেষের তপ্ত দুপুর

দক্ষিণ হল কাবু,

ঠান্ডা হাওয়ায় উত্তর এখন

ফুরফুরে ফুলবাবু।

ভাবছ বুঝি উত্তর এখন

আছে রসে বশে,

হায়না রূপী অসুখ গুলো

 মাপছে জল কষে।

গাঁটের ব্যথা সর্দি কাশি

বলতে অনেক পারি,

এই ঠান্ডায় আসতে পারে

অযাচিত মহামারি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

উত্তরের কবিমুখ

শিশির রায়নাথ কবিতা লেখা তাঁর শখ, অন্য আরও দশটা...

অণুগল্প

ডাকনাম তন্ময় কবিরাজ বিশাল বাড়ি। বাসিন্দা একজন। সুবিমল। চাকরি ছেড়ে সম্পত্তি...

কবির দাড়ি অথবা দাড়ির কবি

সুতপা সাহা সুকুমার রায় লিখেছিলেন, ‘গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, গোঁফ...

রবিকিরণ

নস্টালজিয়া পেরিয়ে ওটিটি’র রহস্যময় কবিগুরু গ্রন্থন সেনগুপ্ত তখন আমার বয়স বড়জোর...