শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

কবিতা

শেষ আপডেট:

 আয়না

(এক)

শুনুন নস্ত্রাদামোস, আপনি মোটেই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নন।

এই যে দেখুন মারা যাইনি

দেখুন হাতে খাপখোলা তরবারি! আত্মসম্মানহীন

মৃত্যুর মুণ্ড উষ্ণ রুধিরে সাঁতরে নিজেই আজ পরিত্রাণ খোঁজে

দীনহীন ভিক্ষুকের মতো।

(দুই)

অন্তরে অসংখ্য ছিটমহল। এই যেমন ধরুন বেরুবাড়ি অঞ্চল। কাঁটাতারের এপারে শোবার ঘর, ওপারে রান্নার!

অন্তরে এমন অসংখ্য ছিটমহল রেখে লোভী আত্মাকে বলি

এমন নাটক করো যেন রি-টেক করতে না হয়।

 

 

দলচাঁদোয়া

উত্তম চৌধুরী

রোদ ভেঙে যায় বৃষ্টিকণায়, দিগন্তকে নাচায় কালো;

চোখের কাছে দৃশ্য রেখে মনের ভিতর চিরাগ জ্বালো।

জল উঠে যায় ডাঙার বুকে, স্রোতের মুখে নাস্তানাবুদ;

সময় ঘিরে সহস্র চোখ ভিক্ষে করে বিষণ্ন খুদ।

উড়ছে আকাশ নির্বাচিত, দেখছে বসে দূরদর্শী;

ক্রোধের মুখে লবণদানা, হাসছে দ্যাখো আশপড়শি।

বেলাগামের কার্যকলাপ, চোখ উঠে যায় কপাল ফুঁড়ে;

আলাভোলাও শশব্যস্ত, কে থাকে আর বেদম কুঁড়ে!

হালে পানি নাও-বা পেলে, দলচাঁদোয়া মাথার উপর;

পেটে ঢোকাও, ট্যাঁকে গোঁজো, গোছাও গোছাও নিজস্ব ঘর।

মাঠে আলে ফারাকটা নেই, মূল্যহীনের এই অবেলা;

আঙুল ফুলে কলাগাছে নাচছে হাজার অন্ধ চেলা।

বাঁধ ভেঙে যায় মুখস্রোতে, অদলবদল সমস্ত দিক;

গোলকধাঁধায় ভাবছে মানুষ কে যে ভুল আর কে সঠিক!

 

 

গড়িয়ে যাচ্ছি রূপকথায়

সাহানুর হক 

সারা পৃথিবী ঘুমিয়ে এখন

অলিগলি, পথঘাট নিশ্চুপ

আমার বাড়িতেও তাই, ব্যতিক্রম কিচ্ছুটি নেই

নিভৃত ঘরের টেবিলজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অফিসের ফাইল–

সব কাজ রয়েছে বাকি এখনও

অথচ রাত জেগে আমি ভেবে চলেছি;

বিকেলের রোদ এসে পড়েছিল যে মেয়েটির গালে

সাবলীল, স্বচ্ছ, ভেজা ঠোঁটে যেন তার

রুদ্ধ ফুলের আত্মজা, কৃষ্ণচূড়ার উপাখ্যান, ভেসে উঠেছিল প্রতিবিম্ব।

এই সময় থমকে যাক, হৃদয় পুড়ে খাক–

তৃষ্ণায় আহত চাতক আমি, অপুষ্টিকর কল্পনা যজ্ঞ পেরিয়ে

রাত্রির গভীরতায় গড়িয়ে যাচ্ছি রূপকথাভরা টইটুম্বুর এমনই জীবনে

এদিকে দিঘল প্রহরের নিঝুম নিয়ে খেলছে অতর্কিতে

ঘামতে থাকা কোনও এক ক্ষুধার্ত বুনোহাঁস।

 

 

জলের নীচে সংসার 

অভিজিৎ সরকার 

এক একটি বিকেল ধানের শিষের মতো রঙিন

এক একটি রাত কোকিলের রং ও কণ্ঠের মতো

সময় ভেসে আসে

মৃদঙ্গের তালে তালে নেচে উঠে ঘুম,

এসো জেগে থাকি

দুজনে সংসার পাতি জলের নীচে

সাঁতার কাটবো রাতভর

মাঝে মাঝে ডুবে যাবো…

নাবিক হয়ে পাড়ি দেবো তোমার সাজানো জলের সংসারে।

 

 

আলোর ক্ষত 

বিদ্যুৎ রাজগুরু 

পরিযায়ী মেঘ লুকিয়ে রেখেছে রোদ

উপত্যকার ঢালে

আগুন পাখির ঠোঁটের চুম্বন

অহরহ ঘর্মাক্ত কপালে

উগ্র আলোয় থমকে যায় স্নায়ুর গতি

মনে পড়ে শেওলায় ঢাকা

সেদিনের পথের স্মৃতি

তবুও বিকালের তামাটে মলাটে ঢেকে রাখি

আলোর ক্ষত

মোনালিসার রহস্যময় হাসির মতো।

 

 

বৃদ্ধাশ্রম

শমিত বিশ্বাস

বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে,

চোখে লেগে থাকে নাতির অজানা ছায়া।

চুপচাপ গড়িয়ে পড়ে সময়ের দুধসাদা ফোঁটা,

অথচ কেউ মুছতে আসে না।

দেয়ালের ক্যালেন্ডারে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা–

সবই শুধু হিজিবিজি আঁকিবুকি।

রোদ ঝরে পড়ে কফির পেয়ালায়,

কিন্তু টেবিলের অপর প্রান্তে কেউ বসে না।

বৃদ্ধাশ্রমে বয়স নয়,

অপেক্ষাই সবচেয়ে বয়স্ক হয়ে ওঠে।

জানলার ফাঁকে হাওয়া ঢোকে, অথচ

সন্তানের কণ্ঠস্বর কোনওদিন ঢোকে না।

 

 

প্রত্যাবর্তন 

দুর্গাশ্রী  মিত্র

সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে কথা হোক

জড়তার আবডালে কত যে কথা জমা থাকে…

চোখ বুজলেই অতীত-সমুদ্রের হাতছানি

নীল সন্ধ্যার যত মায়া তার সবটুকুই স্মৃতি

নোনা শোকে বাঁধ দিতে নেই বইতে দাও শত ব্যথা

পলি জমা বুকে জন্মাক শুধু ভালোবাসা…

Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.

Share post:

Popular

More like this
Related

কবিতা

হৈমন্তিক  চন্দ্রানী চৌধুরী    এক খামখেয়ালি গল্প ছড়িয়ে আছে হেমন্তের বারান্দায়, আসন্ন শীতের কাঁপুনি...

কবিতা

খেয়াল করিনি এতদিন অনন্ত রায়  সোনালি ধানের পোয়াতি ভোগ শ্রাবণের প্রেমে মেঘে-মেঘে...

কবিতা

নববর্ষ সুজিত দাস রায় হঠাৎ চারিদিকে উদ্দাম উচ্ছলতা-- আস্তে আস্তে আকাশের রং...

কবিতা

ফণীমনসার কাব্য অভিজিৎ পাল মৃত্যুনিশান ছুঁয়ে যায় কাঁটাতারের বেড়া; ফুলদানি থেকেও উঠে...