শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

কবিতা

শেষ আপডেট:

ভীষ্ম

পঙ্কজ ঘোষ

শুধু আপনার প্রতিজ্ঞার জন্য

কৃষ্ণের এত বাড়বাড়ন্ত

শুধু আপনার জন্য

একজন অন্ধ রাজা হয়ে

রাজ্যকে নিয়ে যায় উচ্ছন্নের দিকে

শুধু আপনারই জন্য

কত কত মানুষ মরে গেল,

কত ঘর মরে গেল,

কত আগামী মরে গেল।

শরশয্যায় শুয়ে এসব না-ভেবে

আরেকটু আগে মানুষের মতো ভাবলে

আপনিই আদর্শ হয়ে উঠতেন আমাদের

 

মিথ

সুবীর সরকার

 

সব জনপদের নিজস্ব এক গন্ধ থাকে

আমরা ঢুকে পড়ি দশ নদী, বিশ ফরেস্টের ভেতর

এই ভূখণ্ডের যত গাছপালা।

বালি ও মাটির বহতা বিস্তার।

হাওয়ায় পুরাণ কথা, জন্মাতে থাকা মিথ

আলপথে দোতরা বাজে

হেসে ওঠেন আমাদের টগর অধিকারী।

 

ফিরে আসার কবিতা

তুহিনা সুলতানা


স্মৃতি-সন্নিবেশে দুঃখের গোপন আলো
প্রাণের অতল বিস্তারে জেগে আছে ঘন
ভোরের কুয়াশা মেখে খেলা করে হাঁস
ঢেউ ভেঙে ঘুমের ভিতর স্বপ্ন খুলে বসি
শান্ত পুকুরের মতো তোমার গ্রীবাভঙ্গি
কোন পথে ছড়িয়ে দিলে দ্রুত আগুন?
আশ্চর্য অস্থির হয়ে ধরে রাখি প্রিয় জল
মন একা পড়ে থাকে অতীতের ছায়ায়।
মহাসময়ের উপর দাঁড়িয়ে আছি আজও
আমি কেউ নই, চাকার ঘূর্ণন জুড়ে গতি
ভুলে যাওয়া স্বভাবগত, দু’চোখের ফাঁকি।
কতটুকু চিনেছি জীবন, সামান্য আয়ুর সাজ
কীভাবে লিখব বলো হারানো পথের ভাষা
তোমারই আঙুল ছুঁয়ে ভালোবাসায় ফেরা…

 

চৌমাথা 

মৌমিতা সরকার 

 

হৃদয়ের ঠিক চৌমাথায় একটা আখড়া

প্রতি সন্ধ্যায় সেখানে অনুভূতিরা আসে

আড্ডা দেয়, চা খায়, তর্ক করে।

কোনও কোনও দিন হাতাহাতি পর্যন্ত!

তারপর, তারপর শহরে অন্ধকার গাঢ় হলে

একে একে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে তারা

এইভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী

অনুভূতিরা আসে, ফিরে যায়

পানের পিকের মতন কিছু খয়েরি রঙ শুধু

দেওয়ালে মেখে রাখে।

কী চায় ওরা?

চৌমাথার আখড়ায় ফসিলের জন্ম দেবে?

এইভাবে পিক জমতে জমতে

আখড়ার শরীর ক্রমশ রক্তে ভরে যায়!

তারপর শতাব্দীর পর শতাব্দী…

একভাবে দাঁড়িয়ে থাকে একটা চৌমাথার মোড়

একটা নির্জন রাস্তা, কতগুলো ভাঙা কাপ

পানের পিক, আধখাওয়া সিগারেট

অন্ধকার, নিস্তব্ধতা, আর

আর একটা শূন্য হৃদয়।

 

উত্তরণ

অভিজিৎ সেন

 

বৃশ্চিকের পায়ে নুয়ে আছে মাথা

দু’বেলা কুর্নিশ করে সমবেত মোসাহেব

না হলে পৃথিবী হারিয়ে ফেলবে যেন নিজের গতি

একটি খাদ তোমার কৃতিত্ব স্তম্ভ

পদ পরিবর্তনের ঝঞ্ঝা থেমে গেলে

তোমার পিচ্ছিল পথে দাঁড়িয়ে আছে গিলেটন

মেডুসা পাথর করে দেবে জানি

আমি তবু পাথর ঠেলে উঠে যাব পাহাড়ের চূড়ায়

নদীর তরঙ্গ থেকে আঁজলা করে প্রেম ছড়িয়ে দেব পাথরে

সঞ্জীবনী বিদ্যা থেকে একটি ঋক তুলে নিয়েছি

তোমার শুষ্ক মনে বৃষ্টি আনব বলে।

 

 

রেডক্রস 

অনুভব দে

 

আইসিইউ বেড থেকে শোনা গেল

ভগবান বাঁচিয়ে দিন, খোদা দয়া করুন,  ঈশ্বর সদয় হোন।

প্রাণ বাঁচালেন ডাক্তার।

তাঁকে ফুল দেওয়া হল না।

 

তালগাছ

চৈতালি ধরিত্রীকন‍্যা

 

এই যে মেয়ে বোরখা পরছ

চলার পথে হোঁচট খাচ্ছ

টেবিল টেনিসের বোর্ডটার কী খবর এখন!

ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢাকার দিন আর নেই

সম্মানবোধ পরস্পরের।

তুমি সেই শিক্ষাই অর্জন করো

যেন তুমি সামনে দাঁড়ালেই

সব বিবাদ তরল হয়ে যায়–

তোমার মেরুদাঁড় তোমারই

তুমিই তোমার নৌকার পাল

হেলে চোলো না

সোজা পথটা দেখো

ঝুঁকে কথা বোলো না

ঘাড়টা সোজা রাখো

চোখটা সমান রাখো।

তালগাছের বড় হতে সময় লাগে

আর বড় হয়ে গেলে যুগ যুগ টিকে থাকে

মনে করিয়ে দিই

তিনি কিন্তু

এক পায়েই দাঁড়িয়ে থাকেন।

Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.

Share post:

Popular

More like this
Related

কবিতা

হৈমন্তিক  চন্দ্রানী চৌধুরী    এক খামখেয়ালি গল্প ছড়িয়ে আছে হেমন্তের বারান্দায়, আসন্ন শীতের কাঁপুনি...

কবিতা

খেয়াল করিনি এতদিন অনন্ত রায়  সোনালি ধানের পোয়াতি ভোগ শ্রাবণের প্রেমে মেঘে-মেঘে...

কবিতা

নববর্ষ সুজিত দাস রায় হঠাৎ চারিদিকে উদ্দাম উচ্ছলতা-- আস্তে আস্তে আকাশের রং...

কবিতা

ফণীমনসার কাব্য অভিজিৎ পাল মৃত্যুনিশান ছুঁয়ে যায় কাঁটাতারের বেড়া; ফুলদানি থেকেও উঠে...