উমা মাজী মুখোপাধ্যায়
চাকরির সুবাদে দক্ষিণবঙ্গ থেকে ১৯৭৭ সালে উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন। শিলিগুড়ি কলেজে সেবারে চাকরি নেওয়া। উমা মাজী মুখোপাধ্যায় তারপর থেকে উত্তরবঙ্গেরই হয়ে গিয়েছেন। দক্ষিণবঙ্গে চাকরি নিয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল পরে। সেই ডাক হেলায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গের জল–মাটি–বাতাসকে ভালোবেসে এখানেই আজীবন থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লেখালেখি ভালোবাসেন। উত্তরবঙ্গের প্রতি তাঁর অদম্য টান উমার নানা কবিতায় ধরা পড়ে। এখনও পর্যন্ত পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সেলুলার সংকেত, আলোকবর্ষের বন্ধু, আবহমান, মেঘ দে পানি দে, আমার ভারতবর্ষ নামে এই কাব্য সংকলনগুলি পাঠকরা ভালোবেসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ‘বাংলার মুখ’ পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত।
কাকতাড়ুয়া
মাথার উপরে
গনগনে রোদ্দুর
কোথাও ছায়া নেই
বটবৃক্ষের ছায়া
ভুলে গেছে মানুষ
তাদের হাতে ধারালো কুঠার
শুধু কাটছে কাটছে বনস্পতি
সামনে ঝাঁ চকচকে ফোরলেনের হাইওয়ে
যাচ্ছে যাচ্ছে শিলিগুড়ি হয়ে শিলং
কোলকাতা থেকে কালিম্পং
মানুষ ছুটছে
ভীষণ গতিশীল
ফুরসত নেই
একটু দাঁড়াবার।
একটু বৃষ্টি একটু গান
একটু ছায়া
একটু আলাপ
একটু ভালোবাসা
ফুরসত নেই
মনটা ন্যাড়া পাহাড়ের বুকের উপর
কাকতাড়ুয়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকে একাকী!

