অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: কালীপুজোর আয়োজন চলছে। প্রতিমা আনা হয়েছে। বাড়ির বারান্দায় বসে কয়েকজন প্রসাদের জন্য ফল কাটছেন। আর ছোট একটি বক্সে গান চলছে। মোবাইলের সঙ্গে ব্লুটুথের মাধ্যমে লিংক করা বক্সে গান চলছিল, ‘শ্যামা মা কি আমার কালো রে।’
গানের কথাগুলো গুনগুন করছিলেন জনা কয়েক মহিলা। হঠাৎ করেই সেই বক্সে বেজে উঠল, ‘পালটানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। ভয় আউট ভরসা ইন, বিজেপিকে ভোট দিন।’


বক্সে ওই রকম শব্দ শুনেই চোখ বড় বড় করে উঠলেন এক মহিলা। বললেন, ‘আরে এগুলো কি শুনছিস। পুজোর গান দে।’ কিছুটা ধমকের চোখে মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থাকা এক তরুণীকে ওই মহিলা একথা বলতেই তরুণী বুঝিয়ে দিলেন ওটা বিজ্ঞাপন। ইউটিউবে গান চালালে বিজ্ঞাপন শুনতেই হয়। গানের মাঝে চলে এসেছে সেটা।
শনিবার রাতে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-১ ব্লকের ঘরঘরিয়া গ্রামের এক বাড়ির কালীপুজোতে গিয়ে এমনই দৃশ্যই দেখা গেল। গান চলতে চলতে হঠাৎই বেজে উঠছিল বিজেপির ভোট প্রচারের বিজ্ঞাপনের (Political ads on Social Media) ওই গান। কখনও আবার বেজে উঠেছিল তৃণমূলের বিজ্ঞাপন, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।’ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে এই বিজ্ঞাপনগুলো তৈরি হলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলো যেন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। কোটি কোটি টাকার এমন বিজ্ঞাপন যে এখন অনেকের কাছেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কালীপুজোর বাড়িতেই তা বোঝা গেল।
আলিপুরদুয়ারে তো নির্বাচন শেষ। ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। তাহলে এখনও কেন বিজ্ঞাপনের ভিডিও দেখতে হচ্ছে? এই প্রশ্ন করছেন অনেকেই। তবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এভাবে বিজ্ঞাপন যে চলবে, তা প্রায় স্থির। ওই দিন দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ দক্ষিণবঙ্গে। নির্বাচনের প্রচারকে আধুনিক করতে ডিজিটাল প্রচার করেছে সব রাজনৈতিক দলই। সব থেকে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। বিভিন্ন ধরনের ভিডিও, পোস্টার, অডিও তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে প্রায় দেড় মাস ধরে।
মোবাইলে ইউটিউব খুলেছেন কোনও প্রয়োজনীয় ভিডিও দেখার জন্য। ভিডিও-র প্লে বটনে ক্লিক করতেই প্রথমেই এসে যাচ্ছে ওই ধরনের বিজ্ঞাপন। বারবার ওই ধরনের ভিডিও দেখে বিরক্ত অনেকে। এদিন এই নিয়ে কথা হচ্ছিল আলিপুরদুয়ার শহরের চিত্তরঞ্জনপল্লির বাসিন্দা সাত্যকি চক্রবর্তী নামে এক তরুণের সঙ্গে। চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যুক্ত ওই তরুণের কথায়, ‘ইউটিউবে ভিডিও দেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে এক-দেড় মাস থেকে ভিডিওতে এত পরিমাণ নির্বাচনের বিজ্ঞাপন আসছে, যে কিছু বলার নেই। আমাদের এখানে তো নির্বাচন শেষ। তবুও শান্তি নেই।’
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, স্যোশাল মিডিয়ায় যে বিজ্ঞাপনগুলো চলছে, সেটা গোটা রাজ্যেই চলছে। কোনও নির্দিষ্ট জেলায় চলবে সেই রকম বিষয় নেই। সেজন্যই প্রথম দফায় নির্বাচন শেষ হলেও বিজ্ঞাপন দেখতেই হচ্ছে। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক মৃদুল গোস্বামীর কথায়, ‘২৯ এপ্রিল নির্বাচন শেষ হলেই এই বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বিজ্ঞাপনে তো নির্বাচনে প্রভাব পড়েই। সেজন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

