কুমারগঞ্জ: বিধানসভা নির্বাচনের আগে তপ্ত দক্ষিণ দিনাজপুর। কুমারগঞ্জ ব্লকের বটুন বাসরা এলাকায় তৃণমূলের একটি জনসভাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল (TMC-BJP Political Clash)। বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদক বাবুন মণ্ডলকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ও স্থানীয় উপপ্রধানের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতের এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় বাবুন মণ্ডলকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় বটুন বাসরা এলাকায় একটি দুর্গা মন্দিরের সামনের প্রাঙ্গণে তৃণমূল কংগ্রেস ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ ও জনসংযোগ সভার আয়োজন করেছিল। সভায় বক্তব্য রাখছিলেন জেলার প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক। আহত বিজেপি নেতা বাবুন মণ্ডলের দাবি, তিনি ওই পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ। মন্দিরের চত্বরে রাজনৈতিক সভা না করার নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম ভেঙে সভা করার প্রতিবাদ করতেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আক্রান্ত বিজেপি নেতার সরাসরি অভিযোগ, বটুন অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি চঞ্চল মণ্ডল, পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শিশির দাস, পতিরাম থানার সিভিক ভলান্টিয়ার মৃন্ময় ঘোষ এবং তৃণমূল নেতা শুভাশিস ঘোষ মিলে তাঁকে পিছন থেকে আক্রমণ করেন এবং নৃশংসভাবে মারধর করেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের নামে পতিরাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মারধরের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল। অঞ্চল সভাপতি চঞ্চল মণ্ডলের দাবি, “বিজেপি নেতা ও তাঁর ভাই মদ্যপ অবস্থায় বাইক নিয়ে সভায় ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর গালিগালাজ শুরু করেন। তাঁদের বাড়ি চলে যেতে বলা হলেও তাঁরা অশান্তি থামাননি।” তৃণমূলের দাবি, মারধরের ঘটনা ভিত্তিহীন এবং পরিস্থিতি সামলাতে তাঁরাই উদ্যোগী হয়েছিলেন। ইতিমধ্যে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও থানায় পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল।
ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক বুধরাই টুডু। তিনি বলেন, “তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ারের এই হামলায় জড়িয়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত না করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।” পতিরাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, দু’পক্ষেরই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

