নিশিগঞ্জ: বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারের জনপদগুলোতে রাজনৈতিক হিংসার পারদ চড়ছে। বুধবার কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য ফলিমারি গ্রামে বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসুর (Rathindranath Bose) প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে (BJP TMC Clash)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসু হাড়িভাঙ্গা থেকে প্রচার সেরে মধ্য ফলিমারি গ্রামের দিকে আসছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় একদল তৃণমূল কর্মী আচমকাই প্রার্থীর গাড়ির সামনে এসে কালো পতাকা দেখানোর চেষ্টা করেন এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে দুই শিবিরের কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়।
বচসা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, উত্তেজিত বিজেপি কর্মীরা লাঠি নিয়ে তৃণমূল সমর্থকদের ধাওয়া করেন। গ্রামের রাস্তার ওপরই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন এবং বাজারের দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিশিগঞ্জ ফাঁড়ি ও কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসু সরব হয়ে বলেন, “তৃণমূল পরাজয়ের ভয়ে ভীত। তাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই। বরং বিজেপি কর্মীরাই নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে বলে সূত্রের খবর। ভোটের মুখে নিশিগঞ্জের এই ঘটনায় এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

