শিলিগুড়ি : এ যেন এক নয়া জোট। জোট পাহাড়ে ওঠার। শৃঙ্গ জয়ের স্বপ্নকে ছোঁয়ার। তাই দিন যত কাছাকাছি চলে আসছে, ততই ওঁরা উত্তেজিত, কিছুটা আবেগতাড়িত। ১ জুলাই একসঙ্গে ১২ জন পর্বতোরোহী নতুন অভিযানে বের হচ্ছেন। সকলের নজরেই পোলোগংকা শৃঙ্গ (৬,৩৯০ মিটার) জয়। যদিও কাজটা অত্যন্ত কঠিন। কেননা, একেই উচ্চতাজনিত সমস্যা, তার মধ্যে অত্যন্ত ঠান্ডা হাওয়া। চোখের সামনে পাহাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে পাথর গড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাটাও থাকে। তবে অতীতে উত্তরবঙ্গে পর্বতোরোহীদের এমন জোট হয়নি, তাই নয়া ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে চেনা গণ্ডির বাইরে বের হতে চাইছেন পিয়ালি বিশ্বাস, আমূল ঠাকুররা।
আলিপুরদুয়ার থেকে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং পাহাড় থেকে জলপাইগুড়ি, উত্তরবঙ্গের অনেক পর্বতরোহী নিজস্ব উদ্যোগে শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে বাড়ি থেকে বের হন এবং স্বপ্ন সফল করে বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু এবার উত্তরের ছয়টি অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব পোলোগংকা শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে জোট বেঁধেছে। যা উত্তরবঙ্গ তো বটেই, রাজ্যের কোথাও অতীতে হয়নি। ‘টিম নর্থবেঙ্গল’-কে নেতৃত্ব দেবেন ভাস্কর দাস। বাকিরা হলেন জয়ন্ত সরকার, সুজয় বণিক, ত্রিদিব সরকার, ডঃ স্বরূপ খান, হীরক ব্রক্ষ্ম, নবনিশ দত্ত, সায়ন ঘোষ, পার্থপ্রতিম দে, সুস্মিতা সরকার, পিয়ালি ও আমূল। ১ জুলাই শিলিগুড়ি থেকে রওনা দিয়ে দিল্লি হয়ে তাঁরা পৌঁছাবেন মানালি। সেখান থেকে দরচা ও লাদাখের সোকার লেক হয়ে দলটি বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর কথা ৭ জুলাই। ১২ জুলাই হতে পারে স্বপ্ন ছোঁয়ার দিন। ওইদিনই তাঁদের পোলোগংকা শৃঙ্গে পা রাখার কথা। দিনটি ১৩ জুলাইও হতে পারে। দলটি শিলিগুড়ি ফিরে আসার কথা ১৯ জুলাই। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের অগাস্টে লাদাখের পোলোগংকাতে প্রথম পা রেখেছিলেন মাইক রাত্তি, রিচার্ড ল’, ট্রেভর উইলিস এবং নারিন্দার চাকুলা। তাঁরাও দলবেঁধে গিয়েছিলেন। একই পথে পা বাড়াচ্ছেন উত্তরের পর্বতোরোহীরা।


কিন্তু কেন জোট বাঁধা? দলনেতা ভাস্করের বক্তব্য, ‘আর্থিক অসংগতি অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত অভিযানের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দল গঠনের ফলে খরচের ক্ষেত্রে কারও ওপরই আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে না। ক্লাবগুলি সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।’ ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশন থেকে অনুমতি পাওয়া গিয়েছে বলেও জানান তিনি।

