রায়গঞ্জ: গরম এখনও সেভাবে পড়েনি। ইতিমধ্যে রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জ ব্লক সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলসংকট (Water Crisis) দেখা দিয়েছে। প্রায় জলহীন ডোবায় মানুষ স্নান করছে। সেই জলেই আবার চলছে কাপড় কাচা, বাসনপত্র ধোয়া। দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের চর্মরোগ। বিশুদ্ধ পানীয় জল না পাওয়ায় তাঁরা ভুগছেন পেটের অসুখে।
মালঞ্চায় সোমবার দেখা গেল দুটি ডোবাতেই গোটা গ্রামের প্রায় ৬০/৭০ টি পরিবারের সবাই উপস্থিত।


মালঞ্চার রফিক আলি বলেন, ‘এখানকার হাটখোলা, ধবাল, দক্ষিণ মালঞ্চা, মালঞ্চা, মালগ্রাম, ছাতিয়ান রঘুনাথপুর, নোহনে ঘরে ঘরে জল নেই। চাষের জন্য মার্শাল বসিয়ে জল তোলা হচ্ছে। ফলে, সাধারণ হাতকল থেকে জল পড়ছে না।’
কোলে বাচ্চা নিয়ে ডোবার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন টুম্পা সরকার।তিনি বলেন, ‘বিগত দু’মাস ধরে এমন পরিস্থিতি। বাচ্চাদের নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। রায়গঞ্জের জল বিক্রেতাদের এতে পোয়াবারো।
৭০ বছরের প্রবীণ সরোজ দাস বলেন, ‘আগে এমন জলকষ্ট ছিল না। বিগত ২-৩ বছর ধরে কল দিয়ে জল পড়ে না। গত বছর পঞ্চায়েত জলট্যাংকের ব্যবস্থা করেছিল। এবার তো কিছুই দেখা যাচ্ছে না।’ একই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা অর্জুনকুমার দাস, অশোক দাস, কুমারেশ দাস, রত্না দাস থেকে মালঞ্চা হাইস্কুলের ছাত্রী সংগীতা দাসের।
এই বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্য কল্যাণকুমার দাসকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। তাই সরকারি অর্থে ইতিমধ্যেই পানীয় জলের একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ছাতিয়ানে একটা চালু হল। বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে জল দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। গতবারের মতো এবারও ট্যাংকিতে করে জল পৌঁছে দিতে প্রধানকে অনুরোধ করব।’

