শিলিগুড়ি: বরফ গলার আভাস মিলল অবশেষে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাহাড়-সমতলের মধ্যে যাত্রীবাহী গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্তে সম্মত হল সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ (Sikkim-West Bengal)। বুধবার স্টেট গেস্টহাউসে দুই রাজ্যের মধ্যে পরিবহণ সংক্রান্ত রেসিপ্রোকাল চুক্তি নিয়ে যে বৈঠক হয়, সেখানেই পারমিট সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাজি হয়েছে প্রতিবেশী দুই রাজ্য। এতদিন পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিকিমে এবং সেখান থেকে এরাজ্যে তিন হাজার করে পারমিট (Car permit) ইস্যু হত। নতুন সিদ্ধান্তে তা সাড়ে চার হাজার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যা স্পষ্ট হয়েছে সিকিমের পরিবহণসচিব রাজ যাদবের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন পর্যটকদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবে গাড়ির চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দিয়ে পারমিটের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। স্টেট ক্যারেজের সংখ্যাও আগের থেকে বাড়ানো হবে।’ পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া পারমিট গাড়ির সিকিমে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন করে স্টেট পারমিট লাগবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এ রাজ্যের তরফে বৈঠকে উপস্থিত পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী তেমন কোনও মন্তব্য করেননি। মেয়র গৌতম দেব বলেন, ‘সমস্ত পয়েন্ট নিয়েই আমাদের আলোচনা হয়েছে। এরপর পুরো বিষয়টা সরকারের কাছে যাবে। তারপর রেসিপ্রোকাল চুক্তির পর্যায় যাবে।’
দুই রাজ্যের মধ্যে পারমিটের সংখ্যা বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও খুব একটা খুশি নন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ওপেন পারমিট ও ফ্রি মুভমেন্ট। ফ্রি মুভমেন্ট হলে ট্যুরিস্টদের অনেক সুবিধা হবে। আমাদের গাড়িচালকদেরও সিকিমে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হবে না।’ অন্যদিকে, বাংলার পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বাসচালকরা সিকিমে যাওয়ার পর বিভিন্ন সময় হয়রানির মুখে পড়ার অভিযোগ করলেও ব্যাপারটা অস্বীকার করেছেন সিকিমের পরিবহণ দপ্তরের উপদেষ্টা মদন সিনচুরি। তাঁর বক্তব্য, ‘হেনস্তার কোনও ঘটনা ঘটে না। কাগজপত্র সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে ফাইন হতে পারে।’ অন্যদিকে, বাস মালিকদের তরফে নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড সহ স্টপের দাবি করা হয়েছিল। এব্যাপারে সিকিমের পরিবহণসচিবকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য বিষয়টা এড়িয়ে যান।
শহরের পরিবহণ, যানজট সমস্য নিয়ে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই বাসের সংখ্যা বাড়িয়েছি। শিলিগুড়ির যানজটকে সরিয়ে বাস টার্মিনাস করা যায় কি না, সেব্যাপারে আমাদের আলোচনা চলছে।’ তবে বাস টার্মিনাস কোথায় হবে, সেব্যাপারে কিছু বলতে চাননি তিনি। এদিন শহরের যানজট সমস্যা নিয়ে মেয়র ও পরিবহণমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকও হয়। অন্যদিকে, বিতর্কের পর এসএনটি-তে হওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম বদলে দেওয়ার কথাও এদিন জানিয়েছেন মদন সিনচুরি।

