Saturday, July 20, 2024
Homeসম্পাদকীয়উত্তর সম্পাদকীয়দেশজ ফুটবলের অনন্য এক জার্নিম্যান

দেশজ ফুটবলের অনন্য এক জার্নিম্যান

  • জয়দীপ বসু

এমন এক চরিত্র কিন্তু ভারতীয় ফুটবলেও ছিলেন, সেই ষাটের দশক থেকে, যাঁর কথা আমরা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম। বুধবার সকালে টিকে চাতুন্নির মৃত্যুসংবাদ আবার সেই স্মৃতি উসকে দিল। হয়তো বিদেশে যাবার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি, কিন্তু দেশের মধ্যে তাঁর ছিল অবাধ ঘোরাফেরা। সেই কোন কিশোর বয়সে ফুটবলের কিট পিঠে ফেলে বেরিয়েছিলেন, তারপর খেলেছেন এবং কোচিং করিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে; কেরল, গোয়া, মুম্বই, কলকাতা, হায়দরাবাদ, কোথায় নয়? কোথাও মোহনবাগানকে জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন করাচ্ছেন, কোথাও বা কেরল পুলিশকে জিতিয়ে আনছেন ফেডারেশন কাপ, সাড়া ফেলে দিচ্ছেন গোয়া ফুটবলে। অভিযোগহীন, প্রাণখোলা এই মানুষটিকে চিনতেন দেশের সব জায়গায় ফুটবলের সঙ্গে জড়িত যাবতীয় লোক।

সবচেয়ে বড় কথা, চাতুন্নি যে সময়ের মানুষ, তখন কলকাতার ফুটবলের খেলোয়াড় ও কোচেরা ছিলেন চরম ঘরকুনো, ময়দানের চৌহদ্দির বাইরে যাওয়া তাঁদের ধাতে ছিল না। দু’একজন ব্যতিক্রমী মানুষকে বাদ দিলে, কেউই কল্লোলিনী তিলোত্তমা শহর ছেড়ে বাইরে যাবার কথা ভাবতেই পারতেন না। চাতুন্নি কিন্তু এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে কোচিং করে বেড়াতেন অনায়াসে। ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে মাঠে প্রত্যাশিত ফল হাসিল করতে তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না।

সন্দেহ নেই চাতুন্নি, তাঁর নিজের সময়ে, ছিলেন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কোচ। মোহনবাগান, সালগাঁওকার, কেরল পুলিশ, চার্চিল ব্রাদার্স সহ তৎকালীন সেরা দলের কোচিং তিনি করেছিলেন এবং করেছিলেন যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে। তিনি ছিলেন আইএম বিজয়নের প্রথম কোচ, তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় ফুটবলে প্রবেশ এই বিস্ফোরক প্রতিভার, কিন্তু চাতুন্নির নিজের মুখ থেকে এই নিয়ে কোনও আত্মপ্রশংসামূলক কথাবার্তা কেউ কোনওদিন শুনেছে বলে মনে করতে পারবেন না।

চাতুন্নির থেকে অনেক কম সাফল্য নিয়ে অনেক কোচ জাতীয় দলের দায়িত্ব না পাওয়ার জন্য হা-হুতাশ করেন, ফুটবল জগতের তাবড় কর্তাদের উঠতে বসতে দোষারোপ করেন। ব্যতিক্রম ছিলেন চাতুন্নি। কেরলে তাঁর বাড়িতে ফোন করলে প্রশ্ন করবেন তাঁর সময়কার মোহনবাগান ফুটবলাররা কে কেমন আছেন, জাতীয় দল কেমন খেলছে, নতুন বিদেশি কোচ আদতে কেমন। কিন্তু আমাকে এরা কেউ একবার সুযোগ দিল না, আমি একজন বঞ্চিত মানুষ, এহেন কথাবার্তা নৈব নৈব চ। তাঁর আত্মজীবনীর নাম বাংলা অনুবাদে দাঁড়ায়, ‘ফুটবল আমার আত্মা’। ফুটবল সত্যিই ছিল চাতুন্নির প্রাণের খেলা, ১৫ বছর বয়স থেকে ৭৫ বছর পর্যন্ত অহর্নিশি তাঁর ধ্যানজ্ঞান, কিন্তু ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রকাশ্যে বিচলিত বোধ করা, এ ছিল তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ।

ভারতীয় ফুটবলের এক অনন্য চরিত্র হয়ে থেকে গেলেন টিকে চাতুন্নি।

(লেখক সাংবাদিক)

Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
- Advertisment -spot_img

LATEST POSTS

Bangladesh | বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরলেন প্রায় হাজার পড়ুয়া, এখনও আটকে চার হাজার

0
ঢাকা: কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশে আটকে পড়েছেন কয়েক হাজার ভারতীয় পড়ুয়া। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার জন...

Malda | উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত খবরের জের, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করল প্রশাসন

0
সামসী: উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত খবরের জেরে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। ভরাট হওয়া সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করায় খুশি চাঁচলের বাসিন্দারা। সম্প্রতি সরকারি ডোবা জমি ভরাট করে দখলের...

Sukanta Majumdar | ‘রাজনীতি ভুলে কেন্দ্র-রাজ্য মিলে কাজ করা উচিত’, মন্তব্য সুকান্তর

0
কলকাতা: রাজ্যের স্বার্থে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রে রাজনীতি ভুলে কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা উচিত রাজ্য সরকারের। নিউটাউনের (Newton) বণিকসভার শিক্ষা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে (Educational...

Madhya Pradesh | শহিদের বাবা-মাকেও আর্থিক ক্ষতিপূরণ! ক্যাপ্টেন অংশুমান বিতর্কের মাঝেই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রদেশে

0
উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশকর্মীর মৃত্যু হলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ স্ত্রীর পাশাপাশি বাবা-মাও পাবেন। সম্প্রতি এমনটাই ঘোষণা করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব (CM...
Biman-Banerjee

Biman Banerjee | গাড়ির কালো কাচে আপত্তি অধ্যক্ষ বিমানের, শপথ নিয়ে ফের সংঘাত

0
কলকাতা: শপথ নিয়ে রাজ্যপালের (Bengal Governor) মনোভাবে ক্ষুব্ধ অধ্যক্ষ বিমান বন্দোপাধ্যায় (Biman Banerjee)। পালটা চিঠি পাঠালেন রাজভবনে। রাজ্যপালকে (C V Ananda Bose) লেখা চিঠিতে...

Most Popular