Saturday, May 25, 2024
Homeউত্তর সম্পাদকীয়দেশের নির্বাচন আর একতরফা নয়

দেশের নির্বাচন আর একতরফা নয়

 

  • উত্তম সেনগুপ্ত

ভোটের মাঝপথে এসে দুটো ট্রেন্ড স্পষ্ট। প্রথমত, এটি আর একটা ঘোড়ার দৌড় নয়। দ্বিতীয়ত, ইন্ডিয়া জোট অপ্রত্যাশিত ভালো লড়াই চালাচ্ছে। তৃতীয়ত, চূড়ান্ত ফল যাই হোক না কেন, প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তিনি যে রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট দুর্বল, দলেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তা প্রমাণিত। বিজেপি কোনওভাবে হারলে মোদি বিরোধীদের আস্তিন থেকে ছুরি বেরোবে।

নানা নির্বাচনি ভাষণে তাঁর ক্রমবর্ধমান মরিয়া দাবিতে এটি স্পষ্ট। তৃতীয় দফার ভোটের দিন মোদি অভিযোগ করেছিলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় গেলে রাম মন্দিরে ‘বাবরির তালা’ ঝোলাবে। তিনি জনগণকে ‘ভোট জিহাদ’ ও ‘রাম রাজ্য’-এর মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার ডাক দেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ভবিষ্যতে ধর্মের ভিত্তিতে ভারতীয় ক্রিকেট দল নির্বাচন করে সংখ্যালঘুদের অগ্রাধিকার দিতে পারে। ৯ মে মোদি অভিযোগ করেন শিল্পপতি গৌতম আদানি, মুকেশ আম্বানির কাছ থেকে রাহুল গান্ধি ও কংগ্রেস বস্তাভর্তি কালো টাকা পেয়েছে। মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী, তখন থেকেই এঁরা তাঁর ঘনিষ্ঠ। অতীতে তিনি গুজরাটের দুগ্ধ চাষিদের বলেছিলেন, কংগ্রেস সরকার তাঁদের মহিষ কেড়ে মুসলমানদের হাতে তুলে দেবে।

এমন নানা মন্তব্যের জন্য মোদিকে ‘মেসেজিংয়ের ওস্তাদ’ মনে করা হয়। এজন্য কখনো-কখনো তিনি আত্মঘাতী গোলও করেন। অনেকেরই অনুমান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিক তথ্য রয়েছে। তিনি ঠিকই বলেছেন আদানি-আম্বানি কংগ্রেসকে অর্থ জোগাচ্ছে। হয়তো শিল্পপতিরা বুঝেছেন, মোদি কেন্দ্রে ফিরছেন না। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করে প্রধানমন্ত্রী শুধু জনপ্রতিনিধিত্ব আইনই ভাঙেননি, বিজেপি প্রার্থী হিসাবে নিজের অযোগ্যতাও প্রমাণ করছেন। কেন তিনি এমন ঝুঁকি নিচ্ছেন? তবে তিনি কি দেওয়াল লিখন পড়ে ফেলেছেন?

এ পর্যন্ত ভোটের তিন ধাপেই ২০১৯ সালের তুলনায় কম ভোট পড়েছে। মোদির সাম্প্রদায়িক ভাষণের পর এই নিরুত্তাপ নির্বাচন সম্ভাব্য নিঃশব্দ বিপ্লবের নির্দেশক বলে ভোট বিশেষজ্ঞদের মত। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটি (সিএসডিএস)- র সঞ্জয় কুমারের মতে, এটা একতরফা নির্বাচন নয়। ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে মারাত্মক লড়াই চলছে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার ভোট বিশেষজ্ঞ প্রদীপ গুপ্তা অবশ্য কোনও বড় উত্থান আশা করেন না। তাঁর মতে, এবারের ভোট একটি সিদ্ধান্তমূলক নির্দেশই হবে। সি-ভোটার-এর যশবন্ত দেশমুখের ইঙ্গিত, চলতি নির্বাচন কম ‘জাতীয়’, বেশি ‘আঞ্চলিক’ হয়ে উঠছে। তাঁরা কেউই বিশ্বাস করেন না যে বিজেপির ক্ষমতায় ফেরার পরিস্থিতি শেষ। দেশমুখ মনে করেন, প্রাথমিকভাবে মোদি ও শা’র কাছ থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শক্তি পাচ্ছে। একইভাবে ইন্ডিয়া জোটও আঞ্চলিক নানা দলের নেতৃত্ব সহ পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, হিমাচলপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি শক্তি পাচ্ছেন। এঁদের অনেকেই কংগ্রেসের প্রচারে নেতৃত্বও দিচ্ছেন। জোটের অন্য দলগুলির প্রচারও আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে চলছে। সেখানে জাতীয় পরিস্থিতি, মোদি হাওয়া উধাও। এটা বিরোধীদের বাড়তি সুবিধা।

এনডিএ-শাসিত গুজরাট, মহারাষ্ট্র বা বিহারের মুখ্যমন্ত্রীরা ইন্ডিয়া জোটের মুখ্যমন্ত্রীদের তুলনায় অনেক কম জনপ্রিয়। বিজেপি গত বছর স্বাচ্ছন্দ্যে রাজস্থানে জিতেছিল। রাজস্থানবাসী নয়া মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার নামের সঙ্গে অপরিচিত। তিনি বরং ‘পর্চিওয়ালা মুখ্যমন্ত্রী’ নামেই বহুলপরিচিত। কারণ, বিধানসভায় পরিষদীয় দলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এক টুকরো কাগজে তাঁর নাম প্রস্তাবিত হয়েছিল। রাজ্যবাসী কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের প্রকল্পগুলি সম্পর্কে নানা প্রশংসাসূচক কথা বললেও তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রীরা বিজেপির হাতের পুতুল। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার কংগ্রেসের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তেলেঙ্গানায় মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি প্রচারে কঠোর পরিশ্রম করছেন।

বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী অবিরাম ‘মোদির গ্যারান্টি’ ও ‘মোদির উপহার’ নিয়ে কথা বলেছেন। মোদিকে দেশহিতৈষী শাসক হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টার ত্রুটি নেই। কোভিড ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট থেকে র‌্যাশনের পণ্যের ব্যাগ, রেলস্টেশনের সেলফি-পয়েন্ট সর্বত্রই মোদিময়। সবকিছুর কৃতিত্ব নিতে মোদির অতৃপ্ত তাগিদ নজর এড়াচ্ছে না। তিনি যেন পরোক্ষে বলতে চাইছেন, ভারতবাসী তাঁর নুন খেয়ে বেঁচে আছেন। সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি ‘বিকশিত ভারত’-এর রিপোর্ট কার্ডে চিহ্নিত করেছেন ‘গত ৪৭ বছরের মধ্যে এখন পারিবারিক ঋণ সর্বোচ্চ, সঞ্চয় সবচেয়ে কম, প্রকৃত মজুরি থমকে গিয়েছে, ক্রমাগত বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, মানুষ ঋণ আর ক্রেডিট কার্ডে বেঁচে আছেন, ১১০০ সরকারি প্রকল্প বাতিল হয়েছে…’। সেখানে তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, কিছু ভারতীয়ের জন্য ‘উজ্জ্বল ভারত’ আছে, কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয়র জন্য রয়েছে ‘দুর্ভোগ ভারত’। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনি প্রচারসভাগুলিতে নিজের সাফল্য নয় বরং বিরোধী দলগুলি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা নিয়ে অনেক বেশি সরব হচ্ছেন।

ইউটিউব চ্যানেলগুলির ভোট আলোচনায় রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা টিভির ভোট বিশেষজ্ঞদের তুলনায় কম বাধা পাচ্ছেন। তাঁদের মতে, এবারের সাধারণ নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচনে পরিণত হয়েছে। তাঁরা স্পষ্টতই বলছেন মোদি এখনও সবচেয়ে ‘জনপ্রিয়’ বা ‘পছন্দের’ জাতীয় নেতা। বিজেপি এই নির্বাচনকে মোদির গণভোটে পরিণত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। যেখানে ব্র্যান্ড মোদির ক্যারিশমা উধাও। তাঁদের অনেকেরই বিশ্বাস যে, তাঁরা দেওয়াল লিখন পড়ে ফেলেছেন। মোদির বিদায় সময়ের অপেক্ষা মাত্র। বিজেপির রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে আতঙ্কের কথা শুনিয়েছেন। প্রাক্তন সাংসদের মতে, এটা চক্রান্ত। গদিচ্যুত হয়ে মোদি নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র দেখতে পাবেন। তিনি ইতিমধ্যে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এক প্রচারসভায় তিনি বলেছেন, পাকিস্তান রাহুল গান্ধিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায়।

কর্ণাটকের ভোটারদের পছন্দের একটি স্বতন্ত্র শ্রেণি ও লিঙ্গ বিভাজন করেছেন শিক্ষাবিদ তথা কন্নড় পোর্টাল এডিনা ডট কম-এর সমীক্ষা তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এইচভি বাসু। তাঁর মতে, ধনী, সচ্ছলরা বিজেপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। দরিদ্র ও মহিলাদের পছন্দ কংগ্রেস। জাত ও সম্প্রদায়ের শ্রেণি বিভাজন কাঁটায় জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কর্ণাটকে সচ্ছল দলিত ও মুসলমানদের কংগ্রেসের চেয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এমন প্রবণতা শুধুমাত্র কর্ণাটকেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

চলতি বছর এডিনার দুই সমীক্ষার মধ্যে শেষটি প্রথম পর্বের ভোটের আগে করা হয়েছিল। সমীক্ষার দাবি, ওই রাজ্যে মোট ২৮টি লোকসভার মধ্যে কংগ্রেস ন’টি ও এনডিএ সাতটি আসনে জিতবে। বাকি ১২টিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সমীক্ষায় আরও বলা হয়, কর্ণাটকে সব মিলিয়ে কংগ্রেস ১৮টি আসন জিততে পারে। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপি এখানে ৫১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৫টি আসন জিতেছিল। মজার বিষয়, বিজেপি বিধানসভা ভোটে হারলেও লোকসভায় ভালো ফল করছে৷ বাসুর ব্যাখ্যা, বিজেপি ও কংগ্রেস দুই দলেরই ৩০-৩৫ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। কংগ্রেস সরকারের পাঁচ গ্যারান্টির সুবিধাভোগী মহিলাদের সমর্থন তাদের অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল। কংগ্রেস পক্ষের এই বাড়তি উৎসাহ বিজেপির ক্ষেত্রে ছিল না বলে সমীক্ষায় প্রকাশ।

ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে মারাঠা-মুসলিম ভোটের একই ইঙ্গিত। মহারাষ্ট্রে এনডিএ-র পথ অনেকটা কঠিন হয়েছে। বিজেপি, শিবসেনা (শিন্ডে) ও এনসিপি (অজিত পাওয়ার)-এর জোট ‘মোদি জাদু’ ও ভোট ম্যানেজমেন্টের উপর নির্ভরশীল। মুম্বই থেকে গুজরাটে ব্যবসা ও শিল্পের স্থানান্তর মোদি-নীতি অনুসরণকারী মহারাষ্ট্রীয়দের বিচ্ছিন্ন করেছে। ফলত, মহারাষ্ট্র-গুজরাট ফল্ট লাইন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ২০ মে এই রাজ্যে ভোট শেষে এনডিএ কত আসন খোয়াবে তা স্পষ্ট হবে। উদ্ধব ঠাকরে, শারদ পাওয়ার ও রাহুল গান্ধির প্রচার বিজেপিকে কোণঠাসা করেছে।

বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ নানা জাতি ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এখন প্রায়ই অমিত শা দেখা করেছেন। বিজেপি ঘনিষ্ঠদের দাবি, হুমকি-নম্রতার সঙ্গে তাদের দলের লাইনে চলতে বলা হয়েছিল। ঘটনাচক্রে তিনি একটি দলকে নাকি বলেছিলেন, ‘আপনারা কি মনে করেন আমরা হারতে যাচ্ছি? মনে রাখবেন, আমরা কোথাও যাচ্ছি না। যদি দলীয় লাইনে না মানেন তবে নির্বাচনের পর আমরা আপনাদের শুধরে দেব।’

গত ১০ বছরের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে বাস্তব পরিস্থিতি অবশ্য বিজেপির বিরুদ্ধেই সক্রিয়। শেয়ার বাজারে বিপর্যয়, হরিয়ানার তিন স্বতন্ত্র বিধায়কের বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসকে সমর্থন ও প্রতিটি পর্বের ভোট শেষে বিজেপির কম আসন পাওয়ার ইঙ্গিত, ভারতীয় জনতা পার্টিতে সবকিছু ঠিকঠাক নেই।

(লেখক টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন রেসিডেন্ট এডিটর)

Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
- Advertisment -spot_img

LATEST POSTS

Cannes Festival | বাঙালি কন্যা অনসূয়া সেনগুপ্ত নজির গড়লেন কানে, পেলেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার

0
উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালি কন্যা অনসূয়া সেনগুপ্ত প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিশেষ নজির গড়লেন ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’-এ (Cannes Film Festival)। প্রথম ভারতীয় হিসেবে সেরা...

Siliguri | সেবক রোডের হোটেলে চুরি, খাবার খেয়ে বাসনপত্র নিয়ে চম্পট দিল চোর

0
শিলিগুড়িঃ চুরি করতে এসে হোটেলে থাকা সব খাবার খেয়ে গেল চোর। শুধু খাওয়া দাওয়া করলে কী আর মান থাকে চোরেদের, তাই খাওয়া দাওয়া সেরে...

ধারণার ছকে তলিয়ে যায় জনতার রায়, হাহাকার

0
গৌতম সরকার রাম থেকে ভোট বামে ফিরছে। কী আনন্দ! বামের যত না, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আনন্দ তৃণমূলের। আহা! পদ্মে ছাপ কমবে। তাই রে নাই...

চালশে সরিয়ে ফের তুল্যমূল্যে মেলানো

0
মৈনাক ভট্টাচার্য যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘কাকাতুয়া’ কবিতার ভেতর থেকে তুলে আনা দুটো মাত্র লাইন- ‘সময় চলিয়া যায়-/নদীর স্রোতের প্রায়’। স্কুল জীবনের বয়ে যাওয়া এই সময়ের নিয়মানুবর্তিতার...

ব্যাঘ্রসুন্দরীর মৃত্যুশতবর্ষ ও নারী স্বাধীনতা

0
রূপায়ণ ভট্টাচার্য এই তো আর একটা মে মাস চলে যাচ্ছে। ঠিক একশো বছর আগের এমনই এক মে মাসে চিরকালের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলেন সুশীলাসুন্দরী নামে এক...

Most Popular