উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ডায়েট করার কথা ভাবলেই অধিকাংশ মানুষ তালিকা থেকে সবার আগে আলুকে (Potato) বাদ দেন। ভীতি একটাই— আলুতে থাকা শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট মেদ বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, আলু মানেই ভয়ের কারণ নয়। বরং সঠিক পদ্ধতিতে খেলে আলু হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের সঙ্গী।
আলু কেন উপকারী?
আলু কেবল স্বাদে নয়, গুণেও অনন্য। এতে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আলুর ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এ ছাড়া এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে এবং হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। শারীরিক পরিশ্রম যারা বেশি করেন, তাঁদের জন্য আলু শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস।
দিনে ক’টি আলু খাওয়া যায়?
একজন সুস্থ ব্যক্তি দিনে মাঝারি মাপের ১ থেকে ২ টি (১০০-১৫০ গ্রাম) আলু নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, আলুর গুণাগুণ নির্ভর করে রান্নার পদ্ধতির ওপর।
সেরা উপায়: আলু সেদ্ধ বা তরকারিতে দিয়ে খাওয়া শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো।
বর্জনীয়: ডুবো তেলে ভাজা চিপস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। এতে থাকা অতিরিক্ত তেল ও ক্যালরি দ্রুত ওজন বাড়ায়।
বিশেষ সতর্কতা
যাঁদের ডায়াবিটিস রয়েছে বা যাঁরা ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের আলুর ক্ষেত্রে রাশ টানা প্রয়োজন। আলুর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ বেশি হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আলুর পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
সংক্ষেপে, আলু খাওয়ার চেয়েও জরুরি হল আপনি সেটি কীভাবে খাচ্ছেন। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত আলু আপনাকে মোটা নয়, বরং সতেজ রাখবে।

