শালকুমারহাট: সমস্যা দীর্ঘদিন থেকেই ছিল। কখনও লো ভোল্টেজ, আবার কখনও ঘনঘন লোডশেডিং। এভাবেই জলদাপাড়া, শালকুমারহাট ও পলাশবাড়ি এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক নাজেহাল হচ্ছিলেন। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এই সমস্যা সমাধানে ত্রয়ী প্রকল্পের কথা সম্প্রতি ঘোষণা করেছিল। তারমধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। রবিবার থেকে দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেল। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে এই দ্বিতীয় কাজটিও হয়ে যাবে। তারপর তৃতীয় প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার দাবি, পুজোর আগেই এই তিন এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবার মান উন্নত তো হবেই, মিটবে বিদ্যুৎ সমস্যাও। বিদ্যুৎ দপ্তরের এমন তৎপরতায় এলাকার গ্রাহকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার ডিভিশনাল ম্যানেজার অংশুমান সরকার রবিবার শিলতোর্ষা সেতু ও শালকুমার মোড় এলাকায় দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করেন৷ তাঁর কথায়, ‘কাজ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। খুব তাড়াতাড়িই দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তৃতীয় প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়া হবে। এইসব এলাকার বিদ্যুতের যে সমস্যা তা দ্রুত সমাধান হবে।’
তিনটি প্রকল্পের মধ্যে প্রথমটি হল ঘোকসাডাঙ্গা থেকে ফালাকাটা পর্যন্ত টেনে ৩৩ হাজার কেভির একটি লাইন যুক্ত করা। গত ৯ অগাস্ট এই কাজটি শেষ হয়েছে। আর দ্বিতীয় প্রকল্পটি হল সোনাপুর থেকে শালকুমার মোড় পর্যন্ত ১১ হাজার কেভির সংযোগ দেওয়া। এই প্রকল্পের কাজই এখন জোরকদমে চলছে। প্রকল্পের তৃতীয়টি হল জলদাপাড়ার হলং থেকে বনাঞ্চলের ভেতর হয়ে মাটির তলা দিয়ে শালকুমারহাটের টিইসি বিটের পাশে ১১ হাজার কেভির সংযোগ।
এখন সোনাপুর থেকে রাস্তার পাশ বরাবর খুঁটি পোঁতার কাজ করা হচ্ছে৷ এই রাস্তায় রয়েছে শিলতোর্ষা সেতু। এই সেতু পার হলেই পশ্চিম দিকে শালকুমার মোড় এলাকা। এদিন সেতুর পাশ বরাবর লোহার খুঁটি লাগানোর কাজ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। এভাবে খুঁটির কাজ শেষ হলেই বিদ্যুৎবাহী তার লাগানো হবে। তারপর শালকুমার মোড়ে নতুন ১১ হাজার কেভির সংযোগ দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এমন তৎপরতায় শালকুমারহাটের জনপ্রতিনিধিরাও খুশি। শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শ্রীবাস রায়ের কথায়, ‘এই ত্রয়ী প্রকল্প নিয়েই গত ৯ অগাস্ট বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার মেজবিল অফিসে বৈঠক হয়েছিল। সেদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্তারা বিস্তারিতভাবে তিন প্রকল্পের কথা জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবাও কিছুটা উন্নত হয়েছে। প্রথম প্রকল্পের কাজ হওয়াতেই এখন ভোল্টেজ কিছুটা বেড়েছে।’ পলাশবাড়ির পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কমলেশ্বর বর্মন বলেন, ‘এবার বিদ্যুৎ দপ্তর পরিষেবা উন্নত করার জন্য সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। তাই আমরা আশা করছি, খুব তাড়াতাড়িই পরিষেবা উন্নত হবে। পুজোর আগেই আমরা নিশ্চিন্ত হতে পারব বলেও ভরসা রাখছি।’

