উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোট মানেই কি কেবল সাধারণ সরকারি কর্মীদের দায়িত্ব? দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কি ব্রাত্য থাকবেন উচ্চশিক্ষার কারিগররা? এই প্রশ্ন তুলেই মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ। সিঙ্গল বেঞ্চের আগের নির্দেশ খারিজ করে আদালত সাফ জানিয়ে দিল— ভোট উৎসবে শামিল হতে হবে অধ্যাপকদেরও (Professors Election Duty)।
কিছুদিন আগেই অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়েছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। কিন্তু সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা গড়ায় ডিভিশন বেঞ্চে। আজ শুনানির শুরুতেই ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতিরা অধ্যাপকদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ করেন। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশ আজ পুরোপুরি খারিজ হয়ে গেল।


মামলাকারীদের উদ্দেশে এদিন আদালত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন ছঁড়ে দেয়। বিচারপতিরা জানতে চান, যখন দেশ গঠনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো নির্বাচন, তখন দেশের স্বার্থে কেন এগিয়ে আসবেন না অধ্যাপকরা? গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সকলেরই সমান দায়বদ্ধতা থাকা উচিত বলে পর্যবেক্ষণ বেঞ্চের।
নির্বাচন কমিশনের (ECI) পক্ষ থেকে অধ্যাপকদের ভোটের কাজে নিয়োগ করার যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, আদালত আজ তা বহাল রাখল। ফলে এখন থেকে অধ্যাপকদেরও নির্বাচনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে। কমিশন যে যুক্তিতে এই নিয়োগের কথা বলেছিল, তাতে আইনি কোনো বাধা রইল না।
উচ্চ আদালত জানিয়ে দিল, ভোটের কাজে অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে। এই রায়ের ফলে রাজ্যের শিক্ষামহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যেমন কাজের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আদালতের এই অবস্থানকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।

