উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এবার বাংলাদেশে (Bangladesh) জেলবন্দি অবস্থায় মৃত্যু হল জনপ্রিয় গায়ক (Singer) তথা আওয়ামি লিগ নেতা (Awami League leader) প্রলয় চাকীর। গত রবিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। তিনি পাবনা জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। তবে তাঁর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রলয়ের পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবেই প্রাণ হারিয়েছেন এই শিল্পী।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর পাবনা শহরে নিজের বাড়ি থেকেই আটক করা হয়েছিল প্রলয় চাকীকে। পরবর্তীতে একটি বিস্ফোরকের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার প্রলয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জেল চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকাকালীনই রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, জেল হেপাজতে থাকাকালীন প্রলয় চাকীর স্বাস্থ্যের প্রতি চরম অবহেলা করা হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে এই পরিণতি হত না বলে তাঁদের দাবি। প্রয়াত আওয়ামি লিগ নেতার ছেলে সনি চাকীর অভিযোগ, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। জেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও প্রথমে তাঁদের জানানো হয়নি। জেলে যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন।
যদিও জেল কর্তৃপক্ষের তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। পাবনা জেলা সংশোধনাগারের সুপার ওমর ফারুক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রলয় দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ সহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁকে নিয়মিত ওষুধ দেওয়া হত। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
প্রলয় চাকী কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না, তিনি পাবনা জেলা আওয়ামি লিগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছিলেন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী উত্তাল সময়ে বিস্ফোরক সংক্রান্ত এক মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। জনপ্রিয় এই শিল্পীর অকাল প্রয়াণে পাবনার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

