বালুরঘাট: ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে নিজের ভাষায় কথা বলার কারণে চরম লাঞ্ছনা ও অত্যাচারের শিকার হতে হলো এক বাঙালি দম্পতিকে। বালুরঘাট (Balurghat) ব্লকের চকভৃগু গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ভারতী লোহার ও তাঁর স্বামী সনাতন লোহার সম্প্রতি সেকেন্দ্রাবাদ থেকে কার্যত নিঃস্ব অবস্থায় প্রাণ হাতে করে বাড়ি ফিরেছেন (Migrant Workers)।
জীবিকার তাগিদে ছয় মাস আগে সেকেন্দ্রাবাদে গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। ভারতী ও সনাতন লোহারের অভিযোগ, সেখানে বাংলা ভাষায় (Bengali language) কথা বললেই জুটত অকথ্য গালিগালাজ। অসুস্থ হলেও জুটত না চিকিৎসা, উল্টে বেতন আটকে রেখে চলত মানসিক নিগ্রহ। ভারতী দেবীর দাবি, তাঁদের সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার দাবি জানানোয় মালিকপক্ষ বলেছিল— “মরে গেলে যাক।” এমনকি মহিলাদের প্রতিও কুরুচিকর আচরণের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।


পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় ঘরের বাসনপত্র, জামাকাপড় ও আসবাব ফেলে রেখেই পালানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। ট্রেনের টিকিট কাটার মতো টাকাও ছিল না হাতে। শেষ পর্যন্ত টিকিট পরীক্ষকের হাতে-পায়ে ধরে, দীর্ঘ দু’দিন অনাহারে ট্রেনে কাটিয়ে কোনোমতে বালুরঘাটে পৌঁছান তাঁরা।
বাড়ি ফিরেও রেহাই মেলেনি তাঁদের। দম্পতি দেখেন, তাঁদের অবর্তমানে ঘরের টিনের চালসহ বাড়ির একাধিক সামগ্রী চুরি হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রতিবেশীদের থেকে থালা-বাসন ধার করে কোনোমতে দিন যাপন করছেন তাঁরা। সনাতন লোহারের আক্ষেপ, “আর বাইরে কাজ করতে যাব না। সেদ্ধ ভাত খেয়ে এই বাংলাতেই থাকব।”
শনিবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ওই দম্পতির বাড়ি গিয়ে তাঁদের হাতে ত্রিপল, বস্ত্র ও রেশন সামগ্রীর টোকেন তুলে দেন। সভাধিপতি জানান, বিষয়টি তিনি উচ্চমহলে জানাবেন। অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় বিধায়ক বুধরাই টুডু এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন।

