উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুর (Rahul Arunoday Banerjee Death) সঠিক উত্তর এখনও অধরা। কেন এবং কী পরিস্থিতিতে একজন প্রতিভাবান শিল্পীকে অকালে চলে যেতে হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এই আবহে মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল টলিউডের ‘আর্টিস্ট ফোরাম’। সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো, অভিযুক্ত প্রোডাকশন হাউস ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ এবং তার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আর কাজ করবেন না টলিউডের (Tollywood) কোনো স্তরের শিল্পীরা।
এককাট্টা টলিউডের মহাতারকারা:
এদিন সকাল থেকেই রাহুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম। বিকেলে স্টুডিও পাড়ায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বরা। রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব (Dev), কোয়েল মল্লিক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে শুরু করে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, হরনাথ চক্রবর্তী, পিয়া সেনগুপ্ত ও স্বরূপ বিশ্বাস— সকলেই একসুরে প্রতিবাদ জানান।
প্রসেনজিতের আবেগঘন বার্তা:
এদিন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আগামী ২৫ বছর মানুষ এই দিনটির কথা মনে রাখবেন। আজ আমরা যা করছি, তাতে আমাদের কোনো কৃতিত্ব নেই। সব কৃতিত্ব সেই ছেলেটির, যে আমাদের ছেড়ে গিয়ে আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গিয়েছে।” তিনি সরাসরি বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করব না, যারা রাহুলকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছে। এটা ইতিমধ্যেই ঘোষিত। ওই প্রোডাকশন, ওই প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত, ওই নামের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কারও সঙ্গে আমরা কোনও কাজ এই মুহূর্ত থেকে করব না, যতক্ষণ না আমরা জানতে পারি, হয় পাবলিকলি বা কোর্ট থেকে আমরা জানতে পারি যে, আমাদের রাহুল, আপনাদের রাহুল কী করে, কীভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”
ম্যাজিক মোমেন্টস-কে বয়কট, কাজে ফেরা বুধবার থেকে:
আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রোডাকশন হাউসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যতক্ষণ না সামনে আসছে, ততক্ষণ এই হাউসের কোনো প্রজেক্টে কোনো শিল্পী অংশ নেবেন না। তবে সাধারণ টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য প্রোডাকশন হাউসের কাজের ক্ষতি এড়াতে বুধবার থেকেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক বলেন, “প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিই। আমি তিনদিন এখানে ছিলাম না। তবে এটা ঠিক, যাদের জন্য এই ঘটনা, তাদের সঙ্গে কাজ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয় আমাদের।” রাহুলের মৃত্যু টলিউডের শ্যুটিং ফ্লোরে কাজের পরিবেশ এবং সুরক্ষা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তুলে দিল, তা সিনেমা জগতের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

