রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর (North Dinajpur) জেলা আদালত (Raiganj Court) চত্বরে সক্রিয় ‘জাল এফিডেভিট’ চক্রের হদিস মেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। টাকা দিলেই মিলবে এফিডেভিট—এই প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে (Fake Affidavit Scam) নেওয়ার অভিযোগে এক মহিলা আইনজীবীসহ দু’জনকে সাসপেন্ড করল জেলা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশন। বিচারকের সই জাল করার মতো গুরুতর তথ্যও সামনে এসেছে।
জেলায় এসআইআর (SIR)-এর আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা অন্তর্ভুক্তির জন্য এফিডেভিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি দালাল চক্র। রায়গঞ্জের জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ ভায়া গ্রামের বাসিন্দা সইফুদ্দিন মহম্মদ জানান, আইনজীবী রুনা খাতুনকে ৫০০০ টাকা দিয়ে তিনি একটি এফিডেভিট করিয়েছিলেন। পরে বিডিও অফিসে জমা দিতে গিয়ে জানা যায়, ওই এফিডেভিটের কোনো নথি আদালতে নেই এবং বিচারকের সইটিও জাল। এরপরই প্রায় ৫০-১০০ জন উপভোক্তা বার অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারস্থ হন।


ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তর দিনাজপুর জেলা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশন জরুরি বৈঠক ডেকে রুনা খাতুন ও অপর এক আইনজীবীকে সাসপেন্ড করে। বারের সভাপতি শাওন চৌধুরী জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। উত্তর দিনাজপুর তৃণমূল লিগাল সেলের চেয়ারম্যান স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দালালচক্র রুখতে আদালতের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি একটি ‘ফিডব্যাক ফর্ম’ চালুর সুপারিশ করেছে। আদালতে আসা উপভোক্তারা এই ফর্মের মাধ্যমে জালিয়াতি বা দালালচক্র সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন। ১ দিনের মধ্যে এফিডেভিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ টাকা চাইলে এই ফর্মের মাধ্যমেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশাবাদী আইনজীবীরা।

