দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের (Raiganj) কুলিক পক্ষীনিবাস সংলগ্ন কুলিক সেতুর (Kulik Bridge) দুই পাশে মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। শহর লাগোয়া ব্যস্ততম এই রাস্তায় তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ, যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই জল জমে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। পুরোনো জাতীয় সড়কের বেহাল দশা কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে। যার জেরে বাইক সহ ছোট চাকার গাড়িগুলি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। গাড়ি উলটে জখম হচ্ছেন অনেকে। শীতগ্রাম-রুপাহার বাইপাস চালু হলেও এই রাস্তা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যাত্রীবাহী বাসগুলি সারাদিন চলাচল করে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। বেহাল রাস্তার জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয় সকলকেই।
বর্তমানে এই রাস্তাটি রাজ্য পূর্ত দপ্তরের অধীনে এসেছে, দেখভাল সহ সংস্কারের দায়িত্ব রাজ্য পূর্ত দপ্তরের। জেলা পূর্ত দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকার জয়ন্ত চক্রবর্তীর দাবি, ‘পুরো রাস্তাটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রসেসিং চলছে। সেতুটিও সংস্কার করে রেলিং লাগানো হবে।’ তবে কাজ কবে শেষ হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।
বর্তমানে কুলিক সেতু সংলগ্ন এলাকায় গেলে দেখা যাবে, রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ। কবে মেরামত হবে আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা, কেউই জানেন না। গাড়ি এবং বাইকচালকরা সেতুর সামনে এসে থমকে যাচ্ছেন। টোটোগুলি যাত্রী নিয়ে প্রায় উলটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে মুহূর্তে মুহূর্তে। গাড়িচালক দীপক মিশ্র ক্ষোভের সঙ্গে জানান, সেতুর দুই পাশের যে অবস্থা তাতে যে কোনও সময় গাড়ি উলটে গিয়ে নদীতে পড়ে যেতে পারে। সেতুর ওপরেও একইরকম অবস্থা। অ্যাম্বুল্যান্সচালক মহম্মদ আমিন বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের এই বেহাল রাস্তার ওপর দিয়ে রোগীদের নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু প্রশাসনের কোনও নজর নেই।’ কয়েকদিন আগে বাচ্চা নিয়ে টোটোর এক যাত্রী নীচে পড়ে যান। অল্পের জন্য বেঁচে যান মা ও ছেলে। গাড়িচালকদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে দেখা যায় খানাখন্দগুলি মেরামত করা হচ্ছে, দু’দিন পর আবার সেই একই অবস্থা। উত্তর দিনাজপুর বাস ও মিনিবাস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিকের কথায়, ‘বেহাল রাস্তার অভিযোগ জানাতে জানাতে মুখ ব্যথা হয়ে গিয়েছে। কুলিক সেতু সংলগ্ন রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, প্রায় দিন গাড়ির যন্ত্রাংশ বিকল হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা থেকে কোনওমতে রক্ষা পাচ্ছে বাসগুলি। এরপর এই রাস্তা দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হব।’
রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোলের বাসিন্দা প্রবীণ শিক্ষক অশোককুমার রায় জানান, সপ্তাহে কমপক্ষে দু’দিন বিভিন্ন কাজে রায়গঞ্জে আসতে হয়। কুলিক সেতু আসতেই শরীর হালকা হয়ে যায়। কারণ সেতুটা যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জানি না কবে মেরামত হবে এই সেতুর দুই পাশ।

