দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের উলটোদিকে সরকারি জায়গায় রয়েছে রায়গঞ্জ পুরসভার (Raiganj Municipality) বিশাল ডাস্টবিন। যাতে আশপাশের আবর্জনা সেখানে জমা করা যায়। অথচ অভিযোগ, সেই ডাস্টবিন ব্যবহার করছেন না আশপাশের চায়ের দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁর কর্মীরা। তাঁরা তাঁদের দোকানে ব্যবহৃত পাতা, গ্লাস ও উচ্ছিষ্টাংশ ফেলছেন পাশের ফাঁকা জায়গায়। ফলে ডাস্টবিন সংলগ্ন এলাকাই এখন ডাস্টবিন।
একটু এগিয়ে জেলখানার কাছে গিয়ে দেখা গেল বীভৎস ছবি। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সাফাইকর্মীরা পচনশীল ও অপচনশীল আবর্জনা নিয়ে এসে সেখানে জড়ো করেছেন। ডাস্টবিন ছাপিয়ে জঞ্জাল একেবারে রাস্তার ওপর চলে এসেছে। গোরু-ছাগলের দল সেই আবর্জনার মধ্যে ঢুকে খাবার খুঁজছে। চারদিকে ছড়াচ্ছে। পাশেই পুরসভার তরফে টাঙানো ফ্লেক্সে লেখা ‘এখানে আবর্জনা ফেলবেন না’ যেন প্রহসন। ওই এলাকার বাসিন্দা তন্ময় দত্ত এখানকার ডাস্টবিন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এখানকার ডাস্টবিনের জঞ্জাল নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। বাইরের মানুষ শহরে ঢুকলেই এই আবর্জনার স্তূপ দেখেন।’ আর এসবের ফলে আশপাশের দোকানদাররা যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনি পথচলতি অসংখ্য মানুষ এবং ছাত্রছাত্রীদের নাকে রুমাল চাপা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রায়গঞ্জ ব্লক অফিসের ভেতরে পশু হাসপাতালে যাতায়াতের রাস্তাটি আবর্জনায় ভরা। পথ চলতে গেলেই সমস্যা অবধারিত।
এসব কোনও ব্যতিক্রম নয়, উদাহরণ। রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এমন জঞ্জাল জমে থাকার চিত্র অহরহ দেখা যায়। গত দু’দিন ধরে হাতে বেলচা নিয়ে নিজে সাফাই অভিযানে নেমেছেন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তা নিয়ে আবার কটাক্ষ করেছেন পুরসভার প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস। এসবের মধ্যে শহরবাসীর প্রশ্ন, আবর্জনা সাফাইয়ের মতো জরুরি পুর পরিষেবা নিয়ে কেবল রাজনীতির নাটকই তো হচ্ছে, কাজ কবে হবে?
আবর্জনা জমে থাকার একইরকম ছবি এদিন দেখা গেল রায়গঞ্জ পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের জলট্যাংকির গেটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, সেখানকার আবর্জনা সাফাইকর্মীদের মর্জিমতো পরিষ্কার করা হয়। একটু এগিয়ে যেতেই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পোস্ট অফিস মোড়, সেরিকালচার অফিস মোড়, দেবীনগর বাজারের পাশে এবং শিশু সদনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জঞ্জালের স্তূপ ঢিপির মতো উঁচু হয়ে আছে। তবে সেখানে সাফাইকর্মীরা কাজ করছিলেন। শিশু সদনের বিপরীতদিকে বাড়ি শিক্ষক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের। বলছিলেন, ‘ডাস্টবিন আর নেই। তাই স্কুলের পাশেই ওয়ার্ডের আবর্জনা ফেলা হয়। স্কুলের বাচ্চারা এবং শিক্ষকরা সমস্যায় পড়েন। হাওয়া দিলে সব আবর্জনা বাড়ির সামনে চলে আসে।’
যদিও সেখানকার পুরসভার বিদায়ি কাউন্সিলার অভিজিৎ সাহার দাবি, ‘সাফাইকর্মীদের ফোন করে নিয়ে এসে সাফাইয়ের কাজ করাই। কিন্তু এত আবর্জনা জমছে যে ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে হবে না।’
একই ছবি দেখা গেল ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভারত সেবাশ্রমের রাস্তায়। ডাস্টবিনের বাইরে জমে আছে আবর্জনা, কিছু চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সেখানকার বিদায়ি কাউন্সিলার প্রসেনজিৎ সরকারের দাবি, ‘একটিমাত্র ডাস্টবিন, ৪ জন মাত্র সাফাইকর্মী। ফলে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে।’
রায়গঞ্জ পুরসভার প্রশাসক সন্দীপ দাবি করেছেন, ‘শহরের মূল রাস্তার পাশে যে সমস্ত ডাস্টবিন আছে সেগুলো নিয়মিত দু’বার করে পরিষ্কার করা হয়। তা সত্ত্বেও জঞ্জালে ভরে যাচ্ছে।’ তাঁর আশ্বাস, ‘নিয়মিত যাতে প্রতিটি ডাস্টবিন পরিষ্কার হয় সেজন্য কর্মীদের নজর দিতে বলব।’

