দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের আবর্জনা ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাচ্ছে কুলিক মরা নদী (Kulik River)। বাড়ি, দোকান ও খাবার হোটেলগুলোর কাঁচা তরকারির উচ্ছিষ্ট সহ যাবতীয় আবর্জনা ফেলে নদীর একদিক দিয়ে যাতায়াতের রাস্তাও তৈরি করা হচ্ছে। নদীর আশপাশের ভেস্টল্যান্ড ভরাট করে সেখানে বসানো হচ্ছে বসতি।
অভিযোগ, শাসকদলের নেতানেত্রীদের মদতে চলছে ভরাট। রায়গঞ্জ (Raiganj) পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বন্দর শ্মশান কলোনি এলাকায় কুলিক মরা নদী শহরের আবর্জনা দিয়ে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে।
শহরের ময়লা আবর্জনা জনবসতি এলাকায় জমা করায় বাড়ছে দূষণ। কিন্তু প্রতিবাদ করলে শাসকদলের চক্ষুশূল হতে পারেন সে কারণে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। তবে স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির যুব মোর্চার প্রাক্তন জেলা সভাপতি ভক্তকুমার রায় মরা নদী ভরাটের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। অভিযোগ, স্থানীয় শাসকদলের নেতানেত্রীদের মদতে মরা নদী ভরাট করে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। এমনকি নদীর মধ্যে আবর্জনা ফেলে রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ভক্তকুমার রায়ের দাবি, ‘এভাবে ভরাট হতে থাকলে আগামীতে রায়গঞ্জ শহরের জল পাশ হওয়ার জায়গা থাকবে না।’ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা জানান, শহরের আবর্জনা দিয়ে বেশ কয়েকমাস ধরে রায়গঞ্জের মরা কুলিক নদী ভরাট করা হচ্ছে। কিছু বললেই শাসানি শুনতে হয়, তাই ভয়ে চুপচাপ থাকতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে পারছি না।
যদিও রায়গঞ্জ পুরসভার স্থানীয় কোঅর্ডিনেটর তপন দাস বলেন, ‘ওই এলাকায় ৭ থেকে ৮টি পরিবার বসবাস করে। নদীতে যখন জল বেড়ে যায়, তখন তাঁদের যাতায়াত করতে ভীষণ সমস্যা হয়। তাই রাস্তার লেবেলে আবর্জনা ফেলেছে যাতায়াতের জন্য। কোথাও কোনও ভরাট হয়নি। ঢালাই রাস্তাকে বাঁচানোর জন্যে সেতুর বামদিকে আবর্জনা ফেলা হয়েছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘মানুষের জমি, তাই তারা ভরাট করছে। শহরের জল যাওয়ার জন্যে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, আগামীতে প্রত্যেকেই নিজের নিজের জায়গা ঘিরে নেবে। সেসময় জল কীভাবে যাবে? তবে আপাতত আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

