রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরে যানজট সমস্যা বেড়েই চলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে জনসংখ্যা। পাল্লা দিয়ে যানবাহন। শহরের রেলগেট এলাকায় প্রস্তাবিত উড়ালপুল এবং আন্ডারপাস নির্মাণ নিয়ে কারও কোনও উচ্চবাচ্য নেই।
প্রাক্তন সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর উদ্যোগের প্রকল্প এখন বিশবাঁও জলে। বর্তমান সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পাল এবং বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর দিকে তাকিয়ে সকলে। এদিকে শহরে বেড়ে চলেছে টোটো, অটো। পাশাপাশি বেসরকারি যানবাহনের সংখ্যা। স্কুল ও অফিস টাইমে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।


শহরের শিলিগুড়ি মোড় থেকে বিদ্রোহী মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি প্রধান রাস্তা। জাতীয় সড়ক আছে। যদিও দুটি বাসস্ট্যান্ড শহরের ভেতরে থাকায় টোটো, অটো, সরকারি ও বেসরকারি বাসগুলি ওই একটি রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করে। তবে দেবীনগরে ডিভাইডারের জন্য মালদামুখী বাসগুলি জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। এদিকে পূর্ব-পশ্চিমে চলে যাওয়া রেললাইন শহরকে দ্বিধাবিভক্ত করেছে। সারা দিনে ১৫ থেকে ১৬ বার রেলগেট বন্ধ হওয়া যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। একাধিকবার উড়ালপুল এবং আন্ডারপাস নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও কেন্দ্র-রাজ্যের সংঘাতে সেই প্রকল্প কবে বাস্তবায়িত হবে? তা এক বড় প্রশ্ন।
দিনাজপুর বাস ও মিনিবাস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিক বলেন, ‘রেলগেটের পাশে বাসস্ট্যান্ড থাকায় সব সময় যানজট লেগেই রয়েছে। বাসস্ট্যান্ডটি শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উড়ালপুল নির্মাণ করা হলে যানজটের সমস্যা মিটবে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী অভিজিৎ বসু বলেন, ‘যানজট রায়গঞ্জের এক নম্বর সমস্যা। কারণ প্রতিটি মানুষ যানজটে ভুক্তভোগী হচ্ছে। রেলগেট বারবার পড়ার জন্য এই সমস্যা হচ্ছে। যদি শীঘ্রই ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস তৈরি করা না হয় তবে বিপদে পড়ব।’
রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারপার্সন সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, ‘রেললাইন রায়গঞ্জ শহরকে দুভাগে ভাগ করে দিয়েছে। এর মূল দায়িত্ব রেল দপ্তরের এবং কেন্দ্রীয় সরকারের। তাঁরা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। রায়গঞ্জের মানুষ এবার কৃষ্ণ কল্যাণীকে জয়ী করেছেন। আশা করি তিনি এব্যাপারে সদর্থক ভূমিকা পালন করবেন।’

