রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ, যে কোনও সময় ধসে যেতে পারে লাইনের নীচের মাটি। তাই সোমবার থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও দার্জিলিং টয়ট্রেন (Toy Train) পরিষেবা শুরু করতে পারল না দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)। সময় বাড়িয়ে ১১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হচ্ছে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী টয়ট্রেন পরিষেবা। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে জানিয়েছেন, আপাতত পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাহাড়ে বৃষ্টি বাড়লে যখন তখন ধস নেমে আরও বেশকিছু জায়গায় লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা রেলকর্তাদের। তাই আদৌ ১১ তারিখ থেকে ট্রেন চলাচল শুরু সম্ভব হবে কি না, সেব্যাপারে সন্দিহান খোদ রেল। তবে দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত জয় রাইড পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে। কেউ এনজেপি-দার্জিলিং টয়ট্রেনের (NJP-Darjeeling Toy Train) টিকিট কাটতে এলে তাঁদের জয় রাইড সম্পর্কে অবহিত করছে রেল।


দিনচারেক আগেই ভারী বৃষ্টিতে সুকনা থেকে কার্সিয়াং পর্যন্ত একাধিক এলাকায় ধস নামে। যার জেরে রংটং, তিনধারিয়া, পাগলাঝোরা, গয়াবাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় টয়ট্রেনের লাইন। ফলে দার্জিলিংগামী টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে দিতে হয় ডিএইচআর-কে। তড়িঘড়ি ধস সরিয়ে লাইন মেরামতি শুরু করে রেল। তবে পাগলাঝোরা এলাকায় ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, যখন তখন টয়ট্রেনের লাইন সমেত রাস্তা খাদে তলিয়ে যেতে পারে।
তাই ওই এলাকায় ট্রেন চললে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে রেলকে চিঠি দিয়ে টয়ট্রেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েেছ রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে রেল রাজ্যের চিঠির কোনও উত্তর না দিলেও সোমবার থেকে যে ট্রেন চালানোর কথা ছিল, তা ১১ তারিখ পর্যন্ত বাতিল রাখা হয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট যে পর্যটকদের নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না রেল।
তবে কার্সিয়াংয়ের পর থেকে যদি রাস্তা এবং লাইনের পরিস্থিতি ঠিক থাকে, তবে বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ধসের সময় পর্যটকদের বাসে কার্সিয়াং পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে রেল। সেখান থেকে টয়ট্রেনে করে পাঠানো হয়েছে দার্জিলিংয়ে। এবারও সেরকম ব্যবস্থা করতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।

