পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: রেলসেতুতে নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার পাশাপাশি সেতুর ওপর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে রেলসেতুগুলিতে ফুটব্রিজ (Footbridge) তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, ‘২০২৫ সাল থেকে ২০৩০ সাল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে রেলসেতুর পাশে ৪৫২টি ফুটব্রিজ নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় আলিপুরদুয়ার রেল ডিভিশনে তৈরি হবে ২০০টি ফুটব্রিজ।’
রেলসেতু লাগোয়া এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় যাত্রীদের উদ্ধার কিংবা রেলকর্মী, ইঞ্জিনিয়ারদের রেলসেতুর পরিকাঠামো উন্নয়ন কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে খুব সমস্যা হয় ফুটব্রিজ না থাকায়। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতামূলক ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়। সেসময় প্রত্যন্ত রেলসেতুগুলোর পাশে ফুটব্রিজ না থাকাতে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা অন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষে নজরদারি, টহল চালানোর কাজেও সমস্যা হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট রেলসেতুতে তল্লাশি চালানোর কাজেও হিমসিম খেতে হয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীকে। একদিকে রেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভাল, অন্যদিকে, নিরাপত্তাবাহিনীর নজরদারির সুবিধার্থে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে এই উদ্যোগ, জানালেন কপিঞ্জলকিশোর।
আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা এবং জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শিলিগুড়ির পর থেকে আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের অসম সীমানা পর্যন্ত প্রচুর রেলসেতু রয়েছে। অনেকসময় স্থানীয়রা রেলসেতুর ওপর লাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। ফুটব্রিজ তৈরি হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব, মত সাংসদদের।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল তাদের অধীনে মোট ৯৪৩টি রেলসেতুর সঙ্গে ফুটব্রিজ নির্মাণের জন্য জায়গা চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে ৩৮২টি ফুটব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ৩২টি ফুটব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি আর্থিকবর্ষে ১০৯টি ফুটব্রিজ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ৪৯টির কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫-’৩০ পর্যন্ত আরও ৪৫২টি ফুটব্রিজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে আলিপুরদুয়ার রেল ডিভিশনেই তৈরি করা হবে ২০০টি ফুটব্রিজ।

