রামপ্রসাদ মোদক, রাজগঞ্জ : রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন না কেউ। কিন্তু বিডিওর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজগঞ্জের আনাচে-কানাচে কান পাতলেই শোনা যায় তাঁর বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের কথা। যেমন বিডিওর ধমক খেয়ে অসুস্থ স্বাস্থ্যকর্মী রত্না সরকার আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এর কয়েক মাস পরেই তাঁর বেতন বন্ধ হয়ে যায়। তার কিছুদিন পরেই মারা যান তিনি। কিন্তু এতকিছুর পরেও পরিবারের ক্ষোভ বাইরে আসেনি। আবার রাস্তা সংস্কারের দাবি তোলায় মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিতে না বলেছিলেন এই বিডিও। অভিযোগ, এক ঠিকাদার কাজের বকেয়া টাকা কবে পাবেন জানতে গেলে তাঁকে ধমক খেতে হয়। এব্যাপারে প্রশান্তকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সালটা ২০২৩ এর শেষের দিকে। রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন সবে বদলি হয়ে কালচিনি থেকে রাজগঞ্জে কাজে যোগ দিয়েছেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হঠাৎ করে পরিদর্শনে যান ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে। পঞ্চায়েত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান তিনি। সেখানকার ফার্স্ট এএনএম রত্না সরকার অসুস্থ শরীর নিয়ে একটু দেরি করে আসায় সবার সামনে তাঁকে ধমক দেন প্রশান্ত। সেই সময় নিজের অসুস্থতার কথা এবং জটিয়াকালী থেকে ফুলবাড়ি খারাপ রাস্তার কথা বললে শুনতে চাননি বিডিও। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) রাজগঞ্জ স্কুলপাড়ার বাসিন্দা রত্না সরকার অপমানে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঠিক এই ঘটনার কয়েক মাস পরে রত্নার বেতন বন্ধ হয়ে যায়। অপমান এবং আর্থিক দুশ্চিন্তায় এর কয়েক মাস পরে ২৪ অক্টোবর ২০২৪ সালে মৃত্যু হয় রত্নার। কিন্তু এতকিছুর পরেও পরিবারের ক্ষোভ বাইরে প্রকাশ পায়নি।
রাজগঞ্জ পোস্ট অফিস মোড়ের বাসিন্দা ঠিকাদার দিলীপ দাস বেশ কিছু কাজ শেষ করার পরেও টাকা পাননি। তিনি বলেন, অনেক টাকা আটকে আছে। কাজ করেছি টাকা পাচ্ছি না। মানসিক চাপে আমার ব্রেন স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন ছিল। বিডিও অফিসে টাকা চাইতে গেলে বিডিও আমাকে ধমক দেন। বেশ কিছুদিন ধরে অনেক টাকা বকেয়া থাকায় আমার সংসার চলছে না। বাধ্য হয়ে এবছর সেপ্টেম্বরে আমি কোর্টে মামলা করেছি। দিলীপ বলেন, ‘কী আর বলব, এই বিডিওর কথা বলতে এখন ঘৃণা হয়।’
ছোট রাস্তার কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নর্থবেঙ্গল ফার্মের মহিলারা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে পথ অবরোধ করেছিলেন একসময়। অবরোধস্থলে পৌঁছে মহিলাদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিডিও। ধমক দিয়ে বলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছাড়লে রাস্তা হবে। এমনই আরও না বলা কাহিনী এবার হয়তো সামনে আসবে। কারণ এতদিন ধরে চুপ করে বসে থাকা সাধারণ মানুষ সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার সাহস পেয়েছেন।

