Rajganj | নাম একই, প্রতীক আলাদা! রাজগঞ্জে কি স্বপ্নার ভোট কাটবেন স্বপ্না?

শেষ আপডেট:

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: স্বপ্না বর্মনের প্রতীক জোড়াফুল নয়, ফুলকপি। একথা শুনে তৃণমূলের জেলা নেতারাও প্রথমে চমকে উঠেছিলেন। রাজগঞ্জে (Rajganj) এবার স্বপ্না বর্মনের (Swapna Barman) সঙ্গে লড়াই স্বপ্না বর্মনের। দ্বিতীয় স্বপ্না অবশ্য তৃণমূলের প্রার্থী নন, তিনি বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের ইন্ধনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়াইয়ে নেমেছেন রাজগঞ্জে।

কবি বলেছেন, নামে কী আসে যায়? অনেককিছু যে আসে যায় তা বেশ বুঝতে পারছেন রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনে জোড়াফুল প্রতীকে প্রার্থী হওয়া এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন। তঁার কেন্দ্রেই ফুলকপি চিহ্নে নির্দল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক গৃহবধূ, যাঁর নামও স্বপ্না বর্মন। সাধারণ মানুষ, যাঁরা রাজনীতির সঙ্গে খুব একটা সড়োগড়ো নন, শুধু নাম পড়ে ইভিএমে তঁারা বোতাম টিপলে কিছু ভোট এদিক-ওদিক হতেই পারে বলে অনেক বর্ষীয়ান ভোটার মনে করছেন।

তৃণমূলের স্বপ্না বর্মনের প্রার্থী হওয়ার পর কম ঝক্কি সামলাতে হয়নি প্রার্থীর পাশাপাশি তৃণমূলকেও। প্রার্থী ঘোষণার পর স্বপ্নার বাবার মৃত্যু হয়। তারপর রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরেও এনওসি পেতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। কিন্তু তাতেও ফাঁড়া কাটছিল না। কারণ নির্বাচন কমিশনের আলাদা সার্টিফিকেটের প্রয়োজন ছিল। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার একদিন আগে সেই সার্টিফিকেট হাতে পান স্বপ্না। তারপর মনোনয়নপত্র জমা করেন।

নির্দল স্বপ্না বর্মনের বাড়ি রাজগঞ্জের সুখানি পঞ্চায়েতের প্রধানপাড়ায়। স্বামী প্রসেনজিৎ বর্মন কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সংস্থায় চাকরি করেন। নির্দল স্বপ্না সোমবারই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২০১৩ সালে রাজগঞ্জ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। সমাজকর্মী হিসেবে কাজও করেন।

তঁার ভোটে দঁাড়ানোর খবর পেয়ে এদিন আশপাশের অনেকেই নির্দল স্বপ্নার বাড়ি চলে আসেন। এমনই একজন মহম্মদ ফকরুদ্দিন বলেন, ‘তৃণমূলের স্বপ্না বর্মনের সঙ্গে আমাদের প্রধানপাড়ার স্বপ্না বর্মনের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি হবে অনেক ভোটারের।’ আরেক ভোটার পরিমল বর্মন মনে করেন, অনেকে একটু-আধটু পড়তে জানলেও প্রতীক নিয়ে বিভ্রান্ত হতেই পারেন।

কিন্তু নির্দল হয়ে হঠাৎ ভোটে দাঁড়ালেন কেন? প্রধানপাড়ার গৃহবধূ স্বপ্নার উত্তর, ‘আমি গ্রামে থাকি। অনেক সমস্যা ও অনুন্নয়ন চোখের সামনে দেখছি। তাই কয়েকজন শুভানুধ্যায়ীর অনুরোধে এবারই প্রথম প্রার্থী হলাম। আমার পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকলেও আমি আগে প্রত্যক্ষ রাজনীতি করিনি।’ গ্রামে ঘুরলে অবশ্য অন্য গল্প শোনা যাচ্ছে। বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা জানালেন, ‘বহিরাগত’ দীেনশ প্রার্থী হওয়ায় তঁারা তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। এমনকি কয়েকজন জলপাইগুড়িতে দলের সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর বাড়ি পর্যন্ত চলে যান। তাতেও ফল না হওয়ায় তখনই তঁারা গ্রামের মেয়ে স্বপ্নাকে প্রার্থী হিসাবে দঁাড় করানোর পরিকল্পনা করেন। যদিও দীনেশ দাবি করেছেন, ‘আমাদের কোনও বিক্ষুব্ধ প্রার্থী নেই।’

এখনও নিজের প্রচার শুরু করেননি নির্দল স্বপ্না। তবে তিনি মেনে নিচ্ছেন, প্রচারে বেরোলে ভোটাররা এনিয়ে প্রশ্ন করতেই পারেন। কারণ, ইতিমধ্যেই প্রতিবেশীরা এনিয়ে কথা বলছেন। তবে তঁার ধারণা, ‘নামে বিভ্রান্তি হতেই পারে। কিন্তু আমার প্রতীক ফুলকপি ও তৃণমূল প্রার্থীর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে ভোটারদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’ ফুলকপির ছবি দেওয়া পতাকা হাতে, খাদা গায়ে দিয়ে প্রচারে নামবেন বলে নির্দল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন জানিয়েছেন।

তৃণমূলের স্বপ্না বলছেন, ‘দুজনকে দেখতে আলাদা। উনি আমার চেয়ে বয়সে বড়। মানুষ ফুলকপি ও জোড়াফুলের প্রতীকের মধ্যে পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারবেন। কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

তৃণমূলের রাজগঞ্জের বিদায়ি বিধায়ক খগেশ্বর রায় ও তৃণমূল জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ দুজনেই মনে করছেন, এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী স্বপ্নাকে রাজগঞ্জের মানুষ জানেন। তাই একই নামে দ্বিতীয় প্রার্থী থাকলেও তৃণমূলের ভোটে কোনও সমস্যা হবে না।

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Share post:

Popular

More like this
Related

Katihar Road Accident | কাটিহারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, বাস-পিকআপের সংঘর্ষে মৃত ১৩, আহত অন্তত ২৭

কিশনগঞ্জ: রবিবার বিহারের কাটিহার জেলার কোরা থানা এলাকায় এক...

Siliguri | দিনশেষে ক্লান্ত শরীর, তবুও লড়াই জারি! নীরবে লালঝান্ডার জোগান দিচ্ছে মহিলা ব্রিগেড

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: ভোর পাঁচটায় তখনও সূর্যের আলো ঠিকমতো...

Mainaguri | ঠাকুরদার ধমকে ঘরছাড়া ‘পাজি’, ২৬ বছর পর ফেরাল এসআইআর

শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি: দুই যুগেরও বেশি সময় পর ‘পাজি’...