শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে (Siliguri) রামকৃষ্ণ মিশনে (Ramakrishna Mission) হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও গ্রেপ্তার হল না কেউই। হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মিশনের কর্তারা। তাকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতবড় ঘটনার পরও দুষ্কৃতীরা বহালতবিয়তে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেই অভিযোগ মিশনের আধিকারিকদের। কেন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না, তার সদুত্তর মেলেনি পুলিশের থেকে। হামলার ঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে আনে উত্তরবঙ্গ সংবাদ। তবে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়া ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দলের নেতারাও এদিন ঘটনাস্থলে যাননি। প্রতিবাদে কাউকে রাস্তায় নামতেও দেখা যায়নি।
ঘটনার পর এদিন মিশনের দপ্তর সেবক হাউসের গেটে তালা লাগিয়ে সিল করে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের কর্তারা বলছেন নতুন কোনও ঘটনা এড়াতে এবং প্রয়োজনে ফরেন্সিক তদন্তের জন্যই সেবক হাউস সিল করা হয়েছে। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার) তন্ময় সরকারের কথা, ‘তদন্ত চলছে। এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তদন্তের স্বার্থেই সম্পত্তি সিল করা হয়েছে।’
পুলিশের একাংশের আশঙ্কা, হামলার ঘটনায় স্থানীয় গুন্ডাদল কেজিএফ বাহিনীর হাত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, হামলার দিন সকাল থেকেই কেজিএফ বাহিনীর দশ-বারোজনের একটি দলকে এলাকায় ঘুরতে দেখা গিয়েছে। এদিন বিকেলেও সেবক হাউসের আশপাশে বাইকবাহিনীর নজরদারি চোখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন মিশনের কর্মীদের অপহরণের পর মাঝরাত থেকেই জনা কুড়ি মহিলার একটি দল সেবক হাউসের ভেতরে ঢুকে সম্পত্তি দখল নেয়। পরে চাপে পড়ে পুলিশ তাদের বাইরে বের করে দেয়। দুই জমি মাফিয়ার নির্দেশে পরিকল্পনামাফিক কেজিএফ বাহিনীই সেই মহিলাদের নিয়ে এসেছিলেন। স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিকের কথায়, ‘শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে কেজিএফের লোকেরা সেবক হাউসের পাশে জমায়েত হতে শুরু করেছিল। ভয়ে আমরা কিছুই বলতে পারিনি। তবে বুঝতে পারিনি ওরা রামকৃষ্ণ মিশনে ঢুকে ওরকম কাজ করবে। আমরা ভেবেছিলাম অন্য কোনও গোলমাল হবে হয়তো।’
এদিন সকাল থেকেই তিনটি বাইকে পাঁচজনকে সেবক হাউসের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমের কর্মী বা অন্য কেউ হাউসের কাছে গেলেই দূর থেকে মোবাইলে তাদের ছবি ও ভিডিও করে রাখছিল তারা। ঘটনার প্রেক্ষিতে রামকৃষ্ণ মিশনের সদর দপ্তর থেকে এক সন্ন্যাসী এদিন শিলিগুড়িতে এসেছিলেন। পুলিশ এবং ভূমি সংস্কার আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি।
ঘটনার খবর প্রকাশিত হতেই বিভিন্ন মহলের মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জমি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত বরদাস্ত করা হবে না বলেই জানিয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব (Siliguri Mayor Goutam Deb)। তাঁর কথা, ‘বাইরে ছিলাম। শিলিগুড়িতে এসেই ঘটনার কথা শুনেছি। অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয় ঘটনা। আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করবে। এখনও পর্যন্ত রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে আমরা সবদিকে নজর রাখছি।’
শিলিগুড়িজুড়ে জমি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে একদল মাফিয়া শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন সময় নানা রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়াতেই বাড়বাড়ন্ত হয়েছে মাফিয়াদের। তাদের নিয়ন্ত্রণে কখনোই কড়া পদক্ষেপ করেনি প্রশাসন বা পুলিশ। একের পর এক দুষ্কর্ম করলেও কেন কেজিএফ বাহিনীকেও আজ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না পুলিশ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষের কথায়, ‘অত্যন্ত লজ্জার ঘটনা। আমরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। রামকৃষ্ণ মিশনে হামলায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই। এর সঙ্গে তৃণমূল আশ্রিত জমি মাফিয়ারা যুক্ত।’

