শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি: গত কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের জন্য বন্ধ রয়েছে রামশাই রাইনো ক্যাম্প (Ramsai Rhino Camp)। কিন্তু সেখানেই সোমবার রীতিমতো পিকনিকের আসর বসেছে বলে অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, জলপাইগুড়ি আদালতের জনাকয়েক আইনজীবী ও তাঁদের আত্মীয়রা সারাদিন হইহুল্লোড় ও খাওয়াদাওয়ায় মেতে ওঠেন এই ক্যাম্প চত্বরেই। যদিও রামশাই এলাকার স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী অলক রায়ের এমন অভিযোগ মানতে চাননি আইনজীবীরা। তাঁদের সাফাই, তাঁরা ঘুরতে এসেছিলেন। এদিকে, গরুমারা সাউথ রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দে বলছেন, ‘রাইনো ক্যাম্পের বুকিং বন্ধ রয়েছে। তবে দপ্তরের আধিকারিকরা এলে তাঁরা সেখানে থাকতে পারেন। আজ জলপাইগুড়ি আদালতের আইনজীবীরা এসেছিলেন।’ সেখানে তাঁরা পিকনিক করেছেন না কী করেছেন, তাতে অসুবিধের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ধ্রুবজ্যোতি।
প্রশ্ন উঠছে এখানেই। সাধারণ পর্যটকদের জন্য যে জায়গা বন্ধ, সেখানে কীভাবে পিকনিক করার অনুমতি মিলল, সে বিষয়ে অবশ্য কিছু বলতে চাননি রেঞ্জ অফিসার।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের অধীনে রয়েছে রামশাই রাইনো ক্যাম্প। এখানে চারটি কটেজে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পেতেন পর্যটকরা। তবে কটেজ ও কটেজের প্রবেশের মুখের একটি কাঠের ব্রিজ বেহাল থাকায় সেখানে পর্যটকদের থাকা বন্ধ করে দেওয়া হয় বন দপ্তরের তরফে। করোনা পরবর্তী সময় থেকেই কটেজ বন্ধ রয়েছে। এই ক্যাম্পে থাকার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন পর্যটকরা। ঠিক তখনই এই কটেজ চত্বরে কীভাবে প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জনকে নিয়ে পিকনিক করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, সোমবার কিছু আইনজীবী ও তাঁদের আত্মীয়রা মিলে সেখানে পিকনিক করেন। অনেককে কটেজের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেও দেখা গিয়েছে। এতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বন দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে।
রমশাই এলাকার পর্যটন ব্যবসায়ী অলক রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘যেখানে পর্যটকরা বুকিং করতে চেয়েও সেখানে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন না, সেখানে এত মানুষকে ওই এলাকায় কী করে পিকনিক করার অনুমতি দেওয়া হয়।’ অভিযোগ, শুধু এদিনের পিকনিকই নয়, মাঝেমধ্যেই এই কটেজে বহু ভিভিআইপি রাত কাটিয়ে যান। যদিও এদিন সেখানে আসা আইনজীবী দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘ঘুরতে এসেছিলাম। মেদলা নজরমিনার ঘুরে চলে গিয়েছি।’ আরেক আইনজীবী প্রতীকলাল ঝা চক্রবর্তী বলেন, ‘এমনি এসেছিলাম, জলপাইগুড়ি চলে যাব।’

