রাজা বন্দোপাধ্যায়,রানিগঞ্জ: ভোরের আলো ফোটার আগেই রানিগঞ্জে (Raniganj) কেন্দ্রীয় এজেন্সির হানা। শুক্রবার ভোরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ শহরের এক চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে অতর্কিত অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে শিশুবাগান মোড় সংলগ্ন ওই ব্যবসায়ীর বাসভবনে দিনভর চলল তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ।
শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ চারটি গাড়িতে করে ইডির ৪-৫ জন আধিকারিক পৌঁছে যান এমএসবি রোডের শিশুবাগান মোড় এলাকায়। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী (CISF)। এরপরেই চাল ব্যবসায়ী অজয় কয়ালের বাড়িটিতে তল্লাশি শুরু করেন গোয়েন্দারা। বারো ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ার পর ইডি আধিকারিকরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।


তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অজয় কয়াল রানিগঞ্জ এলাকার একজন অত্যন্ত পরিচিত এবং বড় মাপের চাল ব্যবসায়ী।
- বিদেশে রপ্তানি: তাঁর চাল ব্যবসার জাল শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারত নয়, ছড়িয়ে রয়েছে বিদেশেও।
- একাধিক সংস্থা: তাঁর এবং তাঁর ভাইদের নামে অন্তত ৫ থেকে ৬টি খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা (Food Supply Units) রয়েছে।
- পুরানো প্রতিপত্তি: দীর্ঘ সময় ধরে এই চালের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়াল পরিবার।
যদিও ইডির তরফে সরকারিভাবে অভিযানের কারণ খোলসা করা হয়নি, তবে সূত্রের খবর— রাজ্যে ঘটে যাওয়া কয়েক হাজার কোটি টাকার রেশন দুর্নীতির মামলার যোগসূত্র খুঁজতেই এই হানা। সন্দেহ করা হচ্ছে, রেশন দুর্নীতির টাকা এই ব্যবসায়ীর সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিদেশের বাজারে বা অন্য কোনও ব্যবসায় খাটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। চাল রপ্তানির আড়ালে কোনও বড়সড় আর্থিক তছরুপ বা লেনেদেন হয়েছে কি না, তা জানতে ব্যবসায়ীর বাড়ির ডিজিটাল নথি ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে।
এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অজয় কয়ালের বাড়িতে তল্লাশি চলে। জানা গিয়েছে, এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে রাজ্যের আরও অনেক বড় ব্যবসায়ীর যোগাযোগ রয়েছে, যা তদন্তের পরিধিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

