সায়নদীপ ভট্টাচার্য, বক্সিরহাট: রসিকবিলের (Rasikbil) আবাসিক হরিণের খাদ্যসংকট মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে বন দপ্তর। উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সেখানে প্রায় চার বিঘা জমিতে বিশেষ প্রজাতির ঘাস চাষের প্রস্তুতি চলছে। হাইব্রিড নেপিয়ার প্রজাতির এই ঘাসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা হরিণের শারীরিক বৃদ্ধি ও শক্তির জন্য সহায়ক বলে দাবি বন দপ্তরের। এছাড়া সাধারণ নেপিয়ারের তুলনায় হাইব্রিড জাতের পাতাগুলো অনেক বেশি চওড়া, নরম এবং রসালো হয়, যা হরিণের অত্যন্ত প্রিয়।
কোচবিহারের (Cooch Behar) তুফানগঞ্জ (Tufanganj)-২ ব্লকের রসিকবিল পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম আকর্ষণ। সেখানকার তিন হেক্টর এলাকাজুড়ে থাকা ঘেরাটোপে হরিণের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে আড়াইশোয় পৌঁছেছে। তাদের এই সংখ্যাধিক্যের কারণে বন দপ্তর তথা মিনি জু কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। কারণ প্রায়ই তাদের মধ্যে খাবারের দখল নিয়ে মারামারি হচ্ছে। সমস্যা রয়েছে বাজেট নিয়েও। রসিকবিল মিনি জু থেকে যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে হরিণের খাবারের জোগান দিতে হিমসিম অবস্থা কর্তৃপক্ষের। তাই তাদের অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যাপারে জেলা বনকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।


তবে খাদ্যসংকট নিয়ে একটা স্থায়ী সমাধান চাইছে বন দপ্তর। তাই এই বিশেষ ঘাস চাষের উদ্যোগ। হাইব্রিড নেপিয়ার ঘাসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন (প্রায় ১২-১৪ শতাংশ) এবং কার্বোহাইড্রেট রয়েছে, যা হরিণের শারীরিক বৃদ্ধি ও শক্তির সহায়ক। কোচবিহারের এডিএফও বিজনকুমার নাথ বলেন, ‘সাধারণ নেপিয়ারের তুলনায় হাইব্রিড জাতের পাতাগুলো অনেক বেশি চওড়া, নরম এবং রসালো হয়, যা হরিণের বেশ পছন্দ। হজমও করতে পারে সহজে। রসিকবিল পর্যটনকেন্দ্রের তিন বিঘা জমিতে এই চাষের জন্য উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সবরকম সহযোগিতা করছে।’
বনকর্তারা জানাচ্ছেন, হরিণের এনক্লোজারে নিমজুরি, গামার, পিটালি গাছ রয়েছে। হরিণরা গামার, পিটালি গাছের ফল খায়। তবে নিমজুরির পাতা খায় না। বহেড়া, হরীতকী ফলও তাদের পছন্দের। সেসব কিছু গাছ সেখানে লাগানো হয়েছে। বর্তমানে শুকনো খাবার, কাঁঠাল, শাল ও গামারি গাছের কচি পাতাও হরিণকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খাদ্যসংকট কিছুতেই মিটছে না। তাই এবার রসিকবিল চত্বরেই হাইব্রিড নেপিয়ার ঘাস চাষ করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই ঘাস চাষের জন্য ইতিপূর্বে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাটিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, সারাবছর এই চাষ করা গেলেও বর্ষার শুরুতে রোপণ করা সবচেয়ে উপযোগী সময়। নেপিয়ার ঘাস গৃহপালিত পশু যেমন গোরু, মোষ এবং ছাগলের খাবার হিসেবে বেশি পরিচিত হলেও হরিণও এটি স্বচ্ছন্দে খেয়ে থাকে।

