কোচবিহার,: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার প্রস্তুতি বৈঠকে পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও তৃণমূলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় অনুপস্থিত থাকলেন। ৯ ডিসেম্বর রাসমেলা মাঠে তৃণমূল সুপ্রিমোর জনসভা করার কথা। মঙ্গলবার রবীন্দ্র ভবনে তার প্রস্তুতি বৈঠক হয়। সেখানে দলের জেলা থেকে শুরু করে অঞ্চল স্তরের নেতারা অংশ নেন। কোন এলাকা থেকে কীভাবে কতজন কর্মী জনসভায় অংশ নেবেন তার রূপরেখা তৈরি হয়।
এদিনের সভায় রবি-পার্থর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। রবি-পার্থর নাম উল্লেখ না করলেও বাকিরা কেন আসেননি তা নিয়ে দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক নেতদের কাছে জানতে চান। এবিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, ‘ওঁরা হয়তো মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রচার নিয়ে অন্য কোথাও ব্যস্ত।’ একই মন্তব্য রবীন্দ্রনাথ ঘোষের। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন। পার্থপ্রতিম জানান, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় এদিন সভায় থাকতে পারেননি।
রাসমেলা মাঠে জনসভায় লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অভিজিৎ আগেই ঘোষণা করেছিলেন। তার প্রেক্ষিতে এদিন ভাষণ দেওয়ার সময় উদয়ন সভার খরচ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, ‘সবাইকে সভায় আনতে গড়ে ১০০ টাকা করে খরচ হলেও এক কোটি টাকা প্রয়োজন। জেলা সভাপতি নিশ্চয় এক কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করে রেখেছেন! তাছাড়া দিনহাটা থেকে লোক আনতে যতগুলি গাড়ি লাগবে তা কোচবিহার জেলায় আছে?’
সভা শেষে অভিজিৎ জানান, কর্মীরা সবাই যে যাঁর খরচে সভায় অংশ নেবেন। সভার খরচ দলের নেতা-কর্মীরা বহন করবেন। প্রচুর সংখ্যক গাড়ি প্রয়োজন। সেগুলি জোগাড় করা হচ্ছে।
রাসমেলার মাঠে কোনও বড় সভা হলেই কোচবিহার শহর বিশেষত ঘুঘুমারির তোর্ষা সেতুতে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। সেখান দিয়ে কোচবিহার-দিনহাটা ও কোচবিহার-মাথাভাঙ্গা রুটে যাতায়াত কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। সেই সমস্যা মেটাতে তৃণমূল সভার দিন সকালে সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তোর্ষা সেতুর রাস্তাটি ওয়ান ওয়ে করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এবিষয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে অভিজিৎ জানিয়েছেন। এদিনের প্রস্তুতি সভায় উদয়ন, অভিজিৎ ছাড়া পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল, জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুমিতা বর্মন ও বিধায়ক সংগীতা রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

