নয়াদিল্লি: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মহম্মদ সামিকে দরকার। দীর্ঘ রিহ্যাবের পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরা সামিকে অবিলম্বে দলের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও রবি শাস্ত্রীর দাবি গুরুত্ব পায়নি। ভারতের সিরিজ হারের ময়নাতদন্তে বসে সামির অনুপস্থিতি নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন শাস্ত্রী। দাবি করলেন, আধা ফিট সামিকেও তিনি খেলাতেন! একই সুর রিকি পন্টিংয়েরও।
সামিকে নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে যে ‘নাটক’ হয়েছে, তা নিয়ে দুজনেই অবাক। শাস্ত্রীদের দাবি, বাংলা দলের তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহর সঙ্গে থাকলে বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির গল্পটা অন্যরকম হতেও পারত। সামির ফিটনেস, টেস্ট-প্রত্যাবর্তনের সময়সীমা নিয়ে যেভাবে জলঘোলা হয়েছে, ক্ষোভ আড়াল করেননি প্রাক্তন হেডকোচ।
বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির পর্যালোচনায় শাস্ত্রী বলেছেন, ‘সামির পরিস্থিতি কীরকম ছিল, সেই সঠিক তথ্যটা কেন দেওয়া যায় না? ওর মতো দক্ষ প্লেয়ারকে আমি হলে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতাম। দলের সঙ্গে রাখতাম, যাতে সবসময় সেরা ফিজিওর পর্যবেক্ষণে থাকতে পারে। পরিস্থিতি বুঝে তারপর ব্যবহার করতাম।’
সামি-প্রসঙ্গে শাস্ত্রীর মতামতে সমর্থন করে পন্টিং বলেছেন, ‘আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। ভেবেছিলাম, সিরিজের মাঝপথেও অন্তত ডাক পাবে। একশোভাগ ফিট না হলে কিছুটা কম ওভার বল করত। অলরাউন্ডার নীতীশকুমার রেড্ডি বেশি বল করত। সামি তার মধ্যেই কিন্তু ব্যবধান গড়ে দিতে পারত। সামি, জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ-তিন পেসারে দল সাজাত ভারত, বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যেত।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ী ভারতীয় দলের কোচ শাস্ত্রীর কথায়, অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব না দেওয়া ভুল। ভারতীয় পেস ব্রিগেডে এমন একজনকে দরকার ছিল, যে বুমরাহকে সাহায্য করবে। সিরাজ চেষ্টা করেছে। কিন্তু সামিকে দরকার ছিল। প্যাট কামিন্সের পাশে থেকে যে কাজটা মহম্মদ বোল্যান্ড করেছে, সামি থাকলে সেই সুবিধা পেত ভারতও।
আর এই দায়িত্বটা সামি যে দারুণভাবে সামলাতে সমর্থ, তা নিয়ে এতটুকু সন্দেহ নেই শাস্ত্রীর মনে। সামি-ইস্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগের সুরে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, সামির ফিটনেস নিয়ে যে চাপানউতোর, বিতর্ক হয়েছে, তাতে আমি অবাক। দীর্ঘদিন ধরে এনসিএ-তে রিহ্যাবে ছিল। তারপরও ওর সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা হয়নি!’

