জটেশ্বর: দুই সপ্তাহ পর অবশেষে কোনওরকম সমস্যা ছাড়াই ক্লাস হল ডালিমপুর হেমন্তময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এতদিন ধরে সেই স্কুলে প্রধান শিক্ষিকার যোগদান নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। যাঁকে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে ক্ষোভ ছিল অভিভাবকদের। তাই কখনও স্কুলে তালা মেরে, কখনও অফিস ঘরে তালা মেরে তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সেই শিক্ষিকা একাধিকবার স্কুলে এসেছেন কাজে যোগ দেওয়ার জন্য। তাঁকে বাধা দিয়েছেন অভিভাবকরা। অবশেষে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে মঙ্গলবার।
এতদিন এসব ডামাডোলে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনে ব্যাপক সমস্যা হয়েছে। কখনও ক্লাস হয়নি, কখনও তাদের বারান্দায় ক্লাস করতে হয়েছে। স্কুল শুরু হলেই অভিভাবকদের মাঠে জমায়েত ও আন্দোলন চলত। পড়ুয়াদের মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটত। দু’সপ্তাহ ধরে এই ঘটনা চলার পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) ও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক। স্কুলের টিআইসি দীপালি সরকার বলেন, ‘বুধবার স্কুল চালাতে কোনও সমস্যা হয়নি।’


বুধবার স্কুলটি নির্দিষ্ট সময়েই চালু হয়। দুপুরে মিড-ডে মিলও খাওয়ানো হয়। স্কুল পাহারায় আর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়নি কোনও অভিভাবককে। এমনই একজন অভিভাবক রত্না দাস বলেন, ‘আমরা তো এরকমই চাইছিলাম। আমাদের দাবিকে প্রথমদিকে কেউ মানতেই চাইছিল না।’ আরেক অভিভাবক সন্তোষ রায়ের কথায়, ‘অভিভাবকরা কখনোই স্কুলের খারাপ চাননি। এখন আবার সুষ্ঠুভাবে স্কুল চলছে। এটাই কাম্য।’
প্রাথমিকের ফালাকাটা উত্তর মণ্ডলের ৭৮টি প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে ২২টিতে আগেই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয়ে গিয়েছিল। দিন পনেরো আগে আরও ৫৩টি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়। তার মধ্যে ৫২টি স্কুলে কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি। বরং নানা অনুষ্ঠানে বৈরাতি নৃত্যের মধ্য দিয়ে প্রধান শিক্ষককে বরণ করে নেওয়া হয়। সমস্যা তৈরি হয়েছিল এই হেমন্তময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়েই।

