কোচবিহার: সুকুমার রায়ের ‘অবাক জলপান’ মনে আছে? বাঙালি নিশ্চয় ভোলেনি ‘মশাই একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন?’ সংলাপ। এমনভাবেই জলের খোঁজ করছে কোচবিহার শহর লাগোয়া খাগড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ২৫ হাজার বাসিন্দা। এখানকার প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দার পানীয় জলের জোগান দিতে রয়েছে মাত্র একটি রিজার্ভার। যা থেকে জল পান ১০-১৫ হাজার মানুষ। ফলে বাকিদের দশা চাতক পাখির মতো। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে পানীয় জলের জন্য পুর এলাকায় ছুটছেন গ্রামের মানুষ। দিনভর খোঁজ চলে কোথাও জল পাওয়া যাচ্ছে কি না, তার। যাঁরা ছুটতে পারেন না, তাঁরা বাধ্য হয়ে বাড়িতে থাকা অগভীর অস্বাস্থ্যকর নলকূপের জলই পান করেন। প্রশাসন কেন সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য নয়, দীর্ঘদিন ধরেই পানীয় জলের সংকট রয়েছে খাগড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। একটু সচ্ছল পরিবারগুলি পানীয় জল কিনতে পারলেও, সিংহভাগ মানুষ চরম দুর্ভোগে। স্থানীয় সোনামণি অধিকারী বলেন, ‘পানীয় জলের ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। খুব কষ্ট করে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসন সমস্যার সমাধান করুক।’ স্থানীয় ব্রজবালা সিংহ রায় বলেন, ‘বাড়িতে দু’বার ট্যাপকল বসাল। কিন্তু তারপরেও দীর্ঘ বছর ধরে জলের দেখা নেই। এতে বাধ্য হয়ে আমরা জল কিনে খাই। জলের সমস্যার সমাধান হলে খুবই ভালো হয়।’ পানীয় জলের হাহাকারের কথা স্বীকার করে নিয়ে তৃণমূলের কোচবিহার-২ ব্লকের সভাপতি শুভঙ্কর দে বলছেন, ‘মাত্র একটি রিজার্ভার থাকায় এমন সমস্যা। তবে নতুন করে খাগড়াবাড়ি ক্যানসার হাসপাতাল, খারিজা কাকড়িবাড়ি, খাগড়াবাড়ি তুঁত কোম্পানি ও গ্রাম পঞ্চায়েত লাগোয়া রাজারহাটের যাত্রাপুর এলাকায় রিজার্ভার তৈরি হচ্ছে। চারটি রিজার্ভার তৈরি হলে খাগড়াবাড়িতে আর জলের সমস্যা থাকবে না।’ তবে তাঁর মতো অনেকেরই অভিযোগ, রিজার্ভারগুলির কাজ চলছে ধীরগতিতে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে জলের সমস্যা নতুন না হওয়া সত্ত্বেও কেন রিজার্ভার তৈরির কাজে ঢিলেমি, কেন হঠাৎ গ্রামবাসীর সমস্যা নিয়ে তৎপরতা তৃণমূল নেতা শুভঙ্করের, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভোটের জন্য তাঁর সক্রিয়তা বলে মনে করছেন অনেকেই।
রিজার্ভার তৈরির কাজ ধীরগতিতে হচ্ছে, স্বীকার করে নিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, ‘রিজার্ভারগুলি তৈরির কাজ ২০২৪ সালে শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে আর্থিক সমস্যার জন্য কাজ শ্লথ গতিতে চলছে। তবে অর্থ অনুমোদনের ব্যাপারে আমরা একটা সবুজ সংকেত পেয়েছি। আশা করছি আগামী তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।’ স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রাক্তন বিধায়ক দীপক সরকার বলেন, ‘গ্রাম পঞ্চায়েতে কোথাও যদি ৫টা কল থাকে, তার মধ্যে দুটি কলে সামান্য জল পড়ে। বাকি তিনটি কল অকেজো।’

