দিনহাটাঃ প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার ঘর পেয়েছেন বাংলাদেশ থেকে আসা আরিফ। শুধু তাই নয় তার কাছে রয়েছে ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডও। আর যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। এই ঘটনায় কাঠগড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গোবরাছড়া নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর আলী নিজেই তা স্বীকার করে নিয়েছেন আরিফ বাংলাদেশি।
আরিফের পরিচয় দিতে গিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর আলী জানিয়েছেন, ওই যুবক আজ থেকে ১০-১২ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে ভারতে আসে। ভারতে এসে তিনি দিল্লি, গুজরাটে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন নান্দিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন আরিফ। অথচ সব জানার পরেও গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কেন পুলিশকে সবটা জানালো না তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন?
যদিও গোবরাছড়া নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মহেশ চন্দ্র বর্মন জানান, আরিফ ২০১৭-২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘরের জন্য আবেদন করেন। ঘরের জন্য সার্ভেও করেন বিডিও অফিসের লোকেরা। তারা ওই যুবকের প্রথম পরিচয় হিসেবে ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের ভিত্তিতে তাঁর নামে আবাসের ঘর মঞ্জুর হয়।
অন্যদিকে দিনহাটা-২ ব্লকের বিডিও নিতীশ তামাংও এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলেই দায় এড়িয়ে যান। যদিও আরিফের বাংলাদেশের পরিচয় স্বীকার করে নিয়েছেন তার শাশুড়ি সায়রা বিবি নিজেই।
উল্লেখ্য, দিল্লির লালকেল্লার অদূরে বিস্ফোরণের পর থেকেই সারা দেশ জুড়ে এনআইএ হানা দেয়। এবং গত বুধবার ভোর চারটা নাগাদ এনআইএর তিন সদস্যের বিশেষ টিম হানা দেয় দিনহাটা মহকুমার সীমান্ত গ্রাম নয়ারহাটের নান্দিনায়। সেখানে আরিফ হোসেন নামে এক যুবকের বাড়িতে চার ঘন্টার বিশেষ অভিযান চালায়। সেখানে তদন্তকারীরা আরিফের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সহ তার যাবতীয় কাগজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এবং তার একটি মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড বাজেয়াপ্ত করে এনআইএ। আর এনআইএর অভিযানের দেওয়া সিজার লিস্টে আরিফের বিরুদ্ধে যেসব ধারা দেওয়া হয়েছে তার বেশীরভাগটাই জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ।
স্বাভাবিক ভাবেই একদিকে যখন এসআইআর-এর আবহ, তখন বাংলাদেশি সন্দেহভাজন জঙ্গী কী করে এতরকম সুবিধা লাভ করতে পারে? আর সবাই সব জেনেও প্রশাসনকে কেনই বা অন্ধকারে রাখল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

