উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আরজি কর মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখতে নারাজ কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) প্রয়োজনে সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। বিচারপতি রাজশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে যেকোনো ব্যক্তিকেই জেরা করার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে সিবিআই-এর।
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীর নৃশংস দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। ঘটনার পরদিনই কলকাতা পুলিশ সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে হাই কোর্টের নির্দেশে মামলার ভার যায় সিবিআই-এর হাতে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ২০ জানুয়ারি বিচারক অনির্বাণ দাস তাকে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দেন।
তবে সাজা ঘোষণা হলেও সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। শিয়ালদা আদালতের রায়ের আগেই তাঁরা সিবিআই তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি চলায় বিচারপতি ঘোষ তা শুনতে চাননি। পরবর্তীতে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে উঠলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না প্রশ্ন তোলেন, একই বিষয়ে কেন শীর্ষ আদালতে শুনানি হবে? সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, এই সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি হাইকোর্টেই হবে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে আরজি কর রহস্যের নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিবিআই-এর সামনে নতুন পথ খুলে গেল। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নির্যাতিতার পরিবারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল, কারণ তাঁরা শুরু থেকেই এই ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আসছেন।

