দেওয়ানহাট: প্রায় ২১ বছর কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ কথা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। জেলার নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে উঠে এসে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রক সহ বহু গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু ’২১-এর বিধানসভা ভোটে সেখানে একদা সতীর্থ মিহির গোস্বামীর কাছে পরাজয়ে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার সংকটে পড়ে যায়। পরবর্তীতে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদে বসলেও দল রবিকে নাটাবাড়ি থেকে কার্যত ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে। এখানে তাঁর অনুগামীরাও কার্যত ব্যাকফুটে চলে যান। তবে সম্প্রতি পুরসভার পদ হারিয়ে ফের নাটাবাড়িকে ‘পাখির চোখ’ করেছেন তিনি। আদাজল খেয়ে একদা নাটাবাড়ির সাজানো বাগানে ফের ঘাসফুল ফোটাতে চাইছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দূরত্ব ঘুচিয়ে এবারে দলের স্থানীয় নেতৃত্বকে তাঁর পাশে দেখা যাচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব রবিকে পাত্তা দিতে নারাজ।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব রবিকে নাটাবাড়ি, তুফানগঞ্জ ও কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেয়। একইসঙ্গে চাউর হয়, আগামী বিধানসভায় ফের নাটাবাড়িতে প্রার্থী হচ্ছেন রবি। বর্তমানে তাঁর কার্যক্রম সেই জল্পনাকেই জোরালো করছে। এখন তিনি নিয়ম করে এই কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের সংলাপ, ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’ সিনেমা প্রদর্শন, এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে সহায়তার মতো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর পাশে দলের সংশ্লিষ্ট তুফানগঞ্জ-১(এ) ব্লক সভাপতি সিদ্ধার্থ মণ্ডল, তুফানগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জগদীশ বর্মন, কোচবিহার-১(বি) ব্লক সভাপতি বিভূতি বর্মন সহ বিভিন্ন স্তরের নেতাদের দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কীর্তনের আসরে পৌঁছেও জনসংযোগকে চাঙ্গা করতে মরিয়া রবি। কারণ তিনি ভালোই জানেন, আগামী বিধানসভায় দলের টিকিট পেয়ে জিততে না পারলে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে ইতি পড়ে যাবে।


নাটাবাড়ি কেন্দ্রে ফের সক্রিয়তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে রবি বলেন, ‘দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে তিনটি বিধানসভার কোঅর্ডিনেটর করেছেন। তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। নাটাবাড়ির পাশাপাশি বাকি দুটি কেন্দ্রেও আমি যথেষ্ট সময় দিচ্ছি।’ নাটাবাড়ি কি কিছুটা স্পেশাল? প্রশ্ন শুনে রবির জবাব, ‘এই কেন্দ্র থেকেই জেলায় দলের সৃষ্টি হয়েছে। তাই সেটা স্বাভাবিক। মাঝে কোনও এক অদৃশ্য কারণে এখানকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটা গ্যাপ হয়েছিল। সেটা মিটিয়ে নিয়ে সবাই মিলে ফের এই কেন্দ্র দলনেত্রীর হাতে তুলে দিতে আমরা ঝাঁপাচ্ছি।’ তবে রাজনীতির জটিল সমীকরণ মিলিয়ে নাটাবাড়িতে ফের ঘাসফুল ফুটবে কি না তা মাস কয়েকের মধ্যে স্পষ্ট হবে।
যদিও বিজেপি নেতৃত্ব রবির উদ্যোগকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তীর কথায়, ‘পুরসভার পদ হারিয়ে তিনি ফের এখানকার বিধায়ক হতে চাইছেন। কিন্তু ’২১-এর ভোটে এই কেন্দ্রের মানুষ তঁাকে তথা তৃণমূলকে ত্যাগ করেছেন। তাই তিনি এখন যতই এলাকায় ঘুরুন, কোনও লাভ নেই। এখানে ফের বিজেপির জয় নিশ্চিত।’

