বাবা
শমীক ঘোষ
পুরানো জামা, পুরানো ঘড়ি, কোয়ার্টারের ছোট্ট ঘর–
সাদামাঠা জীবন যাপন
লোকটা নাকি ভারী কৃপণ
বিষয় আশয় কিছুই বোঝে না
লোকটার দাবিদাওয়া শূন্য,
শেষকালে সমস্ত দিয়ে গুছিয়ে গেলেন সংসার
তার ছবিটা এখন দেওয়ালে ঝোলানো
বাৎসরিকে সবাই একটু চেয়ে দেখে, মুছে দেয় ধুলো
দূরের ওই ট্রেনের হুইসেলে ডিজেল শেডের রাস্তায়
সাইকেলে চেপে আজও মনে হয় ঘুরে বেড়ায় বাবা।
উন্মোচন
হিমাচল দাশ
তখনও উন্মুক্ত গর্ভগৃহের
গহন অন্ধকারের সাথে বাঁধন ছিন্ন হল আমার
স্বচ্ছ ভেজা সাদা ওড়না জড়ানো শরীরময়
পবিত্র আঁশটে সুবাস জানান দেয়
দশ মাস কঠোর তপস্যা,
লালিত্যের আর নিরাপত্তার
চিৎকার করে সম্ভাষণ জানাই তোমাদের –
আমি এলাম…
থাকব লড়াই করে তোমাদের সাথে
তোমাদের এই আহ্লাদিত মুখগুলি
পাথেয় করে…..
অনিমিখ
প্রবীর ঘোষ রায়
মানতে যদি না চাও তবু বলছি যা তাই ঠিক,
একটু তোমায় দেখতে চেয়ে এমন অনিমিখ।
দুপুরবেলা প্রখর রোদে পুড়ছে মনের বাড়ি,
মিছিমিছি বারান্দায় শুকোচ্ছে নীল শাড়ি।
ভেবেছিলাম জ্বলতে জ্বলতে কলকাতাতে যাই,
কিন্তু এখন আগের মতো দোতলা-বাস নাই।
একতলাতে শ্রীরাধিকা, দ্বিতলে ত্রিভঙ্গ,
ফঙ্গবেনে বঙ্গদেশ, তবু কতই রঙ্গ।
সেসব দিনে ল্যাম্পপোস্টে লটকানো চিল-ঘুড়ি,
দেখতে পেলেই ওঠ বলতে উঠে পড়তেন ছুড়ি।
চিলেকোঠার সেপাইরা সব কলম নিয়ে হাতে
সারাদুপুর কাটাকুটি খেলতো মেঘের সাথে।
মুঠোয় ধরা লাল নিশান, দিনবদলের ডাক,
গুলির শব্দে ঝুপ-কুয়াশায় উড়ত পাখির ঝাঁক।
জলের ভেতর জ্বলত আগুন, শীতল চিতা-দাহন,
সত্যিটাকে মনে হ’ত রূপকথা সাতকাহন।
ঘরের মধ্যে পথ ঢুকতো, নামতো পথে ঘর,
পথের হদিস হারিয়ে যেত উঠলে বালির ঝড়।
অন্য মানুষ, গল্প একই, অনন্ত প্রতীক্ষা,
সেই অনিমেষ চাইছে আজও দর্শন-ভিক্ষা।
কুয়াশার ক্যালিগ্রাফি
উদয় সাহা
নদীর জলের উপর এক অশরীরী
আত্মার মতন ভেসে চলেছ আজকাল
দেখছি৷ কিন্তু ছুঁতে পারছি না …
রাত হলেই সহস্র সাপের শিসের মতো পৌষ উড়ে আসে
বনফায়ারের পাশে কমে আসে লোক
নিশ্চিন্তে ঘুমাও সাধুখাঁ
সব প্রতীক্ষাদের আমি স্নো-ফলের গল্প শোনাই
নিজে থেকে শীত কে-ই বা চায় বলো?

