কবিতা

শেষ আপডেট:

অবেলায়

মৌমিতা বসু

 

এখন অবেলা বড়-

শব্দকল্পে খোঁজে বৃথা নিরাময়,

আলসেমি জড়িয়ে ধরে স্মৃতি,

স্বপ্নে কারুবাসনা বিস্তর!

 

এখন অবেলা যাপন,

দিন-রাত সময়ের কালঘড়ি!

কেমন যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ,

খসে পড়ে এক এক করে মুখোশ।

 

আলো-আঁধারি ছড়িয়ে যায় প্রান্তরে,

মরু ক্যাকটাসে ফোটে ফুল,

নদীর টান কমে আসে স্রোতে,

সময়ের রং তখন বিধুর!

 

বাড়ি ফেরার দিনে

বেণু সরকার

 

যতই গোল দেওয়ার চেষ্টা করো আসলে কোনও

নদী তোমাকে নেবে না। পৃথিবী অবাক হয়ে

তাকিয়ে থাকে স্বচ্ছতাবিহীন জীবন নৌকোর দিকে।

 

হিসেবের গোলমাল হলে নিভৃতে ছায়া সহ গাছ

চলে যায় দিকচিহ্নহীন প্রান্তরে– নীরবে বিচার

পায়, এজলাস তৈরি থাকে সুদৃশ্য পথ সভায়।

আমরা হেঁটে হেঁটে মেদ কমাই রক্তের রং ঠিক

করার চেষ্টা করি মাত্র, তবু ডাক্তার খুঁজে নেয়

শরীরের কোনখানে কতখানি জল জমে আছে।

 

এসো যাই নিভৃত বনছায়ায় প্রান্তরে যেখানে

মেহনতি মানুষের বিশ্রাম-ঘর, স্বচ্ছ নদীর জলে

স্নানরত যুবকের আনন্দের সীমাহীন উচ্ছ্বাস

আজ সে রওনা দেবে স্বগ্রামের দিকে ট্রেনে।

 

সেবক

প্রবীর শীল

 

করোনেশন সেতুর নীচে ছড়িয়ে আছে কথা

তিস্তার স্রোতে সেবক পাহাড়ের ছায়া ভেসে যায়

এখানে কুরুশকাঁটায় কেউ বুনেছিল মরশুমি সোয়েটার

জীবনের কিমতি উপহার

কয়েকটা ফেনার বুদবুদ ছুঁয়েছিল পায়ের পাতা

ঝিলিক রোদে অভ্রমাখা কুচিপাথর ধুয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন

বরফ সাদা মনের মলিন

কুয়াশার সুখী চাদর জড়িয়ে বসে আছে সময়

চিবুকে পায়রার ওম রেখেছিল কেউ

গোপনে চিকন সলতের আলোর মতো কেঁপেছিল নীরব সেতু

সবাই বেড়াতে আসে ঘোরে ফেরে সেলফি তোলে

তারপর পাখি হয়ে ডানা মেলে উড়ে যায়

খাদের ধারে একলা একটা গাছ সুখ দুঃখ নিয়ে দীর্ঘ হতে থাকে

মানতের সুতোয় সেতু স্তম্ভে জড়িয়ে যায় মানুষের চাওয়াপাওয়া

কত পাপ কত প্রেম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে করোনেশন সেতু

বয়সের ভারে ঈষৎ বাঁকা

 

ভয় পাওয়া না পাওয়ার কবিতা

সুশীল মণ্ডল

 

প্রতিদিন অনায়াস সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে

আমরা বড় হচ্ছি।

তাই আঁধারঘেরা রাত্রিকে আর আমরা ভয়

পাই না

ভয় পাই না পৃথিবীর সংখ্যাতীত অগ্নিকোণকে।

 

ইজরায়েল ইরানের যুদ্ধ দেখে ভয় পাই না

ভয় পাই না ট্রাম্পকে।

ভয় পাই শুধু নিজের মধ্যে বাসা বেঁধে থাকা

অযাচিত অপরাধবোধকে।

 

এখন মানুষকে দেখে ভয় পাই

কেননা মানুষ ভেঙেচুরে যাচ্ছে, তার পায়ের

তলার মাটি সরে যাচ্ছে

কিংবা আগামী কোন কোজাগরীর আলোর

মধ্যে ভেসে যাবে মানুষের ঘর এবং সন্তান সন্ততি

মানুষই মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, এটাই

ভয়।

 

পোয়াতি বৌয়ের আটপৌরে শাড়ি

সাদাচুল ঠাম্মার সযত্নে লালিত তুলসীমঞ্চ

চারপাশের অদ্ভুত সুন্দর ভয়ংকর মেঘ

ঝাউয়ের ফুরফুরে হাওয়া, সুস্থির চোখে চেয়ে

থাকা শাপলা

আমাদের ভয় কেড়ে নেয়

আমাদের সব ভয় কেড়ে নেয়

আমরা তাই আর কোনও ভয় পাই না।

 

অথৈ রাত
সঞ্জয় বিশ্বাস

 

স্বপ্নে তোমাকে ছুঁতে গিয়ে বহু রাত চূর্ণ করেছি।
আমি তো নিশাচর নই,
তবুও রাত জেগে থাকে আমার বুকে।
ঘুমহীন চোখে স্মৃতি ভেসে ওঠে;
পাথরে পাথরে বিস্তার হয় ধুলোবালি,
একদিন মরুঝড়ে কেঁপে ওঠে ভীরু শস্যভূমি।
নিঃস্ব হয়, হেঁটে যায়, ছায়া খোঁজে অন্ধকারে!
ফাটলে ফাটলে তোমার সজীব শেকড়—
শুষে নেয় পূর্ণিমার পাঁজর;
চোখে ক্লান্তি নেমে আসে—
এই হিমশীতল রাতে, কোথাও নেই তুমি।
তবু এই রাত্রিময় তোমার নামের পাশে
একফালি চাঁদের নৌকো ঠেলে—
পার হয়ে যাব অথৈ রাত।

 

 

অবেলায়

মৌমিতা বসু

 

এখন অবেলা বড়-

শব্দকল্পে খোঁজে বৃথা নিরাময়,

আলসেমি জড়িয়ে ধরে স্মৃতি,

স্বপ্নে কারুবাসনা বিস্তর!

 

এখন অবেলা যাপন,

দিন-রাত সময়ের কালঘড়ি!

কেমন যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ,

খসে পড়ে এক এক করে মুখোশ।

 

আলো-আঁধারি ছড়িয়ে যায় প্রান্তরে,

মরু ক্যাকটাসে ফোটে ফুল,

নদীর টান কমে আসে স্রোতে,

সময়ের রং তখন বিধুর!

 

 

 

 

 

 

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

উত্তরের কবিমুখ

শিশির রায়নাথ কবিতা লেখা তাঁর শখ, অন্য আরও দশটা...

অণুগল্প

ডাকনাম তন্ময় কবিরাজ বিশাল বাড়ি। বাসিন্দা একজন। সুবিমল। চাকরি ছেড়ে সম্পত্তি...

কবির দাড়ি অথবা দাড়ির কবি

সুতপা সাহা সুকুমার রায় লিখেছিলেন, ‘গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, গোঁফ...

রবিকিরণ

নস্টালজিয়া পেরিয়ে ওটিটি’র রহস্যময় কবিগুরু গ্রন্থন সেনগুপ্ত তখন আমার বয়স বড়জোর...