শীত গীত
শুভব্রত লাহিড়ী
শীত নিয়ে এক গীত লিখেছি
আয় কে গাবি আয়
শীতের চাদর মিষ্টি আদর
মাখবি যদি গায়।
শিশির ভেজা ঘাসের পালক
আদর ভরা চোখে
তাকিয়ে আছে তোদের দিকে
রোদের ছায়া মেখে।
শির শির শির হাওয়ার মায়া
গুন গুন গুন সুরে
ডাকছে এসো ছুট্টে সবাই
কাছে পাশে দূরে।
ফুলে ফলে নদীর জলে
ভালোবাসার ছায়া
নলেন গুড়ের প্রাণ মাতানো
ঘ্রাণের চির মায়া।
পিঠেপুলি সরুচাকলি
প্যাটিস-পটার স্বাদ
জিভের জলে মাখামাখি
লজ্জা শরম বাদ-
দিয়ে এসো শীতের আসর
গীতের গমক তুলি
সবাই মিলে ফিস্টি করি
মিষ্টি এ দিনগুলি।
বিষাদসিন্ধু
অমৃতেন্দু চট্টোপাধ্যায়
বিষাদের সিন্ধুজলে অবগাহন করেছি
শূন্যতায় ছুঁয়েছি তোমাকে,
খুঁজেছি বাতাসের ঢেউয়ে
আর জলের কলতানে।
হৃদয়ের গভীরে আহ্বান করেছি,
আর দেখেছি ভাঙা-স্বপ্নের স্নিগ্ধ পেলবতায়।
খুঁজেছি, খুঁজেছি আর সিক্ত করেছি অশ্রুজলে,
শূন্যতায় ছুঁয়েছি তোমাকে।
আবার বিষাদের সিন্ধু-তটে বসেছি,
আর ডুবেছি ঘন তিমিরে।
কবিতার জন্ম
অন্তরা মণ্ডল
অনেকদিন না লিখতে লিখতে
ছন্দের আশপাশে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে থাকে
শব্দের কোলাহল,
মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা ভাবনারা করাঘাত করে,
শূন্য নদীর বুকে সে একফালি শিল্পের ডিঙি।
শব্দ আর ছন্দের মাঝখানে বার্লিন দেওয়াল ভেঙে গেলেই
আবার একটা কবিতা লেখা শুরু হবে,
কলমের শীতঘুম চিরে শব্দ শোবে ছন্দের পাশে,
ছন্দ আর শব্দের সংগমেই তো জন্ম নেবে নতুন একটা কবিতা।
অবৈধতা ঘুচে
জরায়ু চিরে বেরিয়ে আসা পংক্তিরা পাবে
সামাজিক স্বীকৃতি।
সহস্র বছর পর চৌরাস্তার মোড়ে যদি প্রলয় নামে, তবে
সেই প্রলয়ের বুকেই আমি দেব গভীর ঘুম।
নিঃশব্দ আগুন
নিতাই দাস
প্রেম আসে মরমি বাতাসের আগে,
একটা অনুচ্চারিত স্পর্শে কেঁপে ওঠে ভেতর।
অভিমান রেখে চলে যায় প্রেমিকা-
তবু তার ছায়া থাকে,
যেন চোখের ভেতর আটকে থাকা আলো।
প্রেমের দাগ মুছে যায় না,
হৃদয়ের গোপন কোণে
নিঃশব্দ আগুন হয়ে জ্বলে সে আজও।
একটা অসুখ-
যা শুধু আমার সঙ্গে বেঁচে থাকে প্রতিদিন।
রাতের নীরবতায় স্পর্শ করে ছায়া,
স্মৃতির মৃদু জ্বালা ছুঁয়ে যায় চোখে,
একটি হাসি, একটি ছোঁয়া-
আজও জোনাকির মতো জ্বলে
হৃদয়ের গভীর অন্ধকারে।

