কোচবিহার: এবার কোচবিহারে বসেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে হিমালয়ান ব্ল্যাক বেয়ার, বন্যকুকুর, প্যাঙ্গোলিন সহ জলজ পাখি দেখার সুযোগ মিলতে পারে। পর্যটকদের কাছে রসিকবিল মিনি জু’র আকর্ষণ বাড়াতে এরকমই একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে বন দপ্তর। এ বিষয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে ইতিমধ্যে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এবার সেন্ট্রাল জু অথরিটির অনুমোদন মিললেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীদের নিয়ে আসা সম্ভব হবে রসিকবিল চিড়িয়াখানায়। এবিষয়ে বন দপ্তরের বিভাগীয় আধিকারিক অসিতাভ দত্ত বলেন, ‘প্রতিবছর চিড়িয়াখানায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় নানা ধরনের বন্যপ্রাণী নিয়ে আসার কথা ভাবা হয়েছে। মাস্টার প্ল্যানও ইতিমধ্যেই আমরা জমা করেছি।’
শুধু তো বন্যপ্রাণীদের আনলেই হবে না, তাদের রাখারও ব্যবস্থা করতে হবে। সেই জায়গাও ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জলজ পাখিদের রাখার জন্য ‘এভিয়ারি’ তৈরি করার কথাও চলছে।
কোচবিহারে তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের রসিকবিল মিনি জু অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বাম আমলে ২ হাজার ১০০ হেক্টরেরও বেশি জমি নিয়ে রসিকবিল প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্রটি তৈরি হয়। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, চিতল হরিণ, চিতাবাঘ, ম্যাকাও, মেছোবিড়াল, ঘড়িয়াল, ময়ূর সহ বিভিন্ন জীবজন্তু রয়েছে। পর্যটনের মরশুমে তো বটেই, বছরের অন্যান্য সময়ও এই চিড়িয়াখানায় পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর রসিকবিল চিড়িয়াখানায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে অনেকটাই। গতবার সবমিলিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হলেও এবার ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্তই মোট ৪১ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। শীতের মরশুম চলাকালীন রাজস্ব আরও বাড়বে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
বর্তমানে নানা ধরনের বন্যজন্তু এই চিড়িয়াখানায় থাকলেও রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হিমালয়ান ব্ল্যাক বেয়ার, প্যাঙ্গোলিন নিয়ে এলে পর্যটকদের আনাগোনা আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী বন দপ্তর। এখন কতদিনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে পর্যটক থেকে শুরু করে কোচবিহারবাসীও।

