সানি সরকার, শিলিগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নাশকতা রুখতে ভোটমুখী বাংলা ও অসমে পা রাখলেন আরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) (RPF DG Railway Security Review) সোনালি মিশ্র। টানা তিনদিন ধরে তিনি দুই রাজ্যের রেলের পদস্থ কর্তাদের পাশাপাশি আরপিএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। ভোটের সময় যাত্রী নিরাপত্তায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সুরক্ষা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য এখন থেকেই নিয়মিত তল্লাশির পাশাপাশি নজরদারির পরামর্শ তিনি দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলছেন, ‘রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, পরিকাঠামোর আধুনিকীরণ এবং সমগ্র অঞ্চলজুড়ে যাত্রীদের জন্য উন্নত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আরপিএফ ডিজির পরিদর্শন ও বৈঠক।’
বর্তমানে বাংলা এবং অসম বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) অপেক্ষায়। প্রতিবেশী দুই রাজ্যেই নির্বাচনি প্রচার সপ্তমে। নির্বাচনি ব্যবস্থায় ব্যস্ত দুই রাজ্যের পুলিশই। এমন পরিস্থিতিতে অসমের পাশাপাশি বাংলায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক করলেন আরপিএফের ডিজি সোনালি মিশ্র। মঙ্গলবার তিনি বৈঠক করেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে। এদিন প্রথমে তিনি আলিপুরদুয়ার জংশন এবং এখানে থাকা আরপিএফ পোস্ট পরিদর্শন করেন। এরপরেই যোগ দেন ‘সুরক্ষা সম্মেলনে’। এখানে ডিআরএম দেবেন্দ্র সিং সহ ডিভিশনের সমস্ত রেলওয়ে আধিকারিক, নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, মেইন লাইন ও জঙ্গলপথে কত ট্রেন চলে, স্টেশনে ও ট্রেনগুলির পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তায় কী কী ব্যবস্থা রয়েছে, সেই সম্পর্কে খোঁজ নেন ডিজি সোনালি মিশ্র। নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আরও কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সেই সংক্রান্ত পরামর্শ এবং নির্দেশ দেন। যার মধ্যে রয়েছে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিরাপত্তারক্ষী বৃদ্ধির নির্দেশ। তিনি খতিয়ে দেখেন বিভিন্ন অপরাধ সংক্রান্ত নথিও।
এর আগে রবি ও সোমবার অসমের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন পরিদর্শনের পাশাপাশি সেখানকার পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক করেন আরপিএফের ডিজি। তিনি বিশেষ বৈঠক করেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তব ও জেনারেল ম্যানেজার (নির্মাণ) আশিস বনসাল সহ বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে। গুয়াহাটিতে বৈঠকের পাশাপাশি এখানকার আরপিএফ পোস্ট পরিদর্শন করেন। মালিগাঁওয়ে আরপিএফের অফিস-কাম ব্যারাকের কাজ খতিয়ে দেখেন।
উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সবসময় ‘সফট টার্গেট’ রেল। অতীতে বিভিন্ন নাশকতার সাক্ষী থেকেছে এখানকার বিভিন্ন স্টেশন। নির্বাচনি ব্যস্ততার সুযোগে যাতে কোনও গোষ্ঠী নাশকতামূলক কাজ করতে না পারে, তার জন্য বাহিনীকে সতর্ক রাখতেই ডিজির এই সফর বলে মনে করা হচ্ছে।

