উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধ শেষ হতে না হতেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। ফলাফল বেরনোর রাতেই শিবপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষকে ফোন করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Rudranil Ghosh-Prosenjit Chatterjee)— এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায় স্টুডিও পাড়ায়। ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-এর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই জল্পনা উড়িয়ে মুখ খুললেন খোদ ‘বুম্বাদা’।
ঘটনার সূত্রপাত রুদ্রনীল ঘোষের একটি মন্তব্যে। জয়ের পর রুদ্রনীল অভিযোগ করেন, এতদিন টলিউডে (Tollywood) তৃণমূলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের যে অলিখিত নিয়ম ছিল, তার অবসান হয়েছে। তিনি জানান, সোমবার রাতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এই খবর চাউর হতেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি টলিপাড়ার ‘ইন্ডাস্ট্রি’ও এবার গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন?


সমালোচনার মুখে পড়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) সাফ জানিয়ে দেন, এর মধ্যে কোনও রাজনীতির রং খোঁজা বৃথা। সংবাদমাধ্যমকে অভিনেতা বলেন, “আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। দয়া করে আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রং লাগাবেন না।” অভিনেতা আরও স্পষ্ট করেন যে, তিনি নিজে কাউকে ফোন করেননি। বরং রুদ্রনীলই তাঁকে ফোন করেছিলেন। প্রসেনজিতের কথায়, “আমার ছোট ভাই আমাকে ফোন করেছিল। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেটুকুই পালন করেছি। এর সাথে রাজনীতির কোনও যোগসূত্র নেই।”
সাম্প্রতিক অতীতে বারবার প্রসেনজিতের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে কাটাছেঁড়া হয়েছে। তবে প্রতিবারই কৌশলী জবাবে বিতর্ক এড়িয়েছেন তিনি। রুদ্রনীলের জয়ের রাতে এই ‘শুভেচ্ছা বিনিময়’ নিছকই সৌজন্য নাকি টলিপাড়ার ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলের ইঙ্গিত, তা নিয়ে আপাতত দ্বিধাবিভক্ত দুই শিবির। তবে ‘বুম্বাদা’ বুঝিয়ে দিলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে তাঁর পরিচয় শুধুই একজন অভিনেতা হিসেবে।

