উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হাওড়ার মাটি তাঁকে খালি হাতে ফেরায়নি। পদ্মফুলের মালায় ঢাকা পড়ে জয়ের স্বাদ নিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। কিন্তু ব্যক্তিগত জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে তাঁর গলায় এখন টলিউড (Tollywood) ও বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার। রুদ্রনীল সাফ জানিয়ে দিলেন, গত কয়েক বছরে টলিউডে যে ‘ব্যান’ সংস্কৃতি চলে আসছিল, তার অবসান ঘটতে চলেছে। রুদ্রনীলের কথায়, “যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাবেন সবাই। অভিনেতা থেকে সাংবাদিক—কারও ওপর আর খবরদারি চলবে না।”
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই জয়ের নেপথ্যে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। আরজি কর-কাণ্ড থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থীদের কান্না—সবকিছুই নাগরিক জীবনকে তেতো করে তুলেছিল বলে তাঁর দাবি। এই প্রসঙ্গেই অভিনেতা-নেতা টেনে আনেন বন্ধু রাজ চক্রবর্তীর ওপর কাদা, গোবরজল ছোড়ার কথা। রাজের ওপর গোবর জল ছোড়ার ঘটনাকে ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’-এর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বলে ব্যাখ্যা করেছেন রুদ্রনীল। তাঁর আক্ষেপ, “রাজ (Raj Chakraborty) এতটাই গুণী যে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে দলকে দুষছেন, তার সঙ্গে নিজেকে জড়ানোর ওর প্রয়োজন ছিল না।”


নিজের ফেলে আসা যন্ত্রণার কথাও এদিন শোনা গেল তাঁর মুখে। রুদ্রনীল স্মৃতিচারণ করেন, “আমাকেও একটা সময় ব্যান করা হয়েছিল। হয়তো তকমা দেওয়া হয়নি, কিন্তু কাজ আটকে দেওয়া হয়েছিল। তখন তো কেউ আমার সমর্থনে টুঁ শব্দ করেননি! পাশে এসে দাঁড়াননি।” তবে নতুন জমানায় সেই তিক্ততার বদলা নিতে চান না তিনি। অনির্বাণ ভট্টাচার্য বা ঋদ্ধি সেনদের মতো যাঁরা ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ’ ছিলেন, তাঁদের জন্য টলিউডের দরজা অবারিত করার আশ্বাস দিয়েছেন রুদ্রনীল।
প্রতিবেদনের শেষে একটি বড় প্রসঙ্গের অবতারণা করেন তিনি। রুদ্রনীল জানান, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতদন্ত এবার নতুন গতি পাবে। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা রাহুলের মৃত্যুর মিছিলে হেঁটেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এই ঘটনার জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী। এক মাস পার হলেও কেন কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে রুদ্রনীল আশ্বস্ত করেছেন, “সব অন্যায়ের বিচার হবে ধীরেসুস্থে।” টলিউডে ভয়মুক্ত কাজের পরিবেশ ফেরানোই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

