উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) দাঁড়িয়েই সেদেশকে তোপ দাগলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jaishankar)। এসসিও সামিটে (SCO Summit) যোগ দিতে মঙ্গলবারই ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন তিনি। দীর্ঘ ৯ বছর পাকিস্তানে পা রেখেছেন ভারতের কোনও বিদেশমন্ত্রী। বুধবার এসসিও সামিটে অংশ নেন জয়শংকর। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় জয়শংকর স্পষ্ট জানান, সন্ত্রাসবাদ (Terrorism) কখনই দুই দেশের সম্পর্ককে মজবুত করতে পারে না।
ইসলামাবাদে দাঁড়িয়ে এদিন তিনি বলেন, ‘এটা স্বতঃসিদ্ধ যে উন্নয়ন ও আর্থিক বৃদ্ধির জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজন।’ এরপরই তিনি সাফ বলেন, ‘যদি দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ চলতেই থাকে তাহলে সেটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক, শক্তির আদানপ্রদান, মানুষে মানুষে সম্পর্ককে সাহায্য করার সম্ভাবনা খুবই কম।’ এরপরই তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রাথমিক লক্ষ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
এদিন তিনি এও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বায়ন ও পারস্পরিক নির্ভরতা বর্তমান সময়ের বাস্তবতা। এসসিও দেশগুলিকে একজোট হয়ে এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন বিদেশমন্ত্রী। এপ্রসঙ্গে জয়শংকর আরও বলেন, ‘সহযোগিতা অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান এবং সার্বভৌমত্বের সমতার উপর ভিত্তি করে হতে হবে, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং একতরফা এজেন্ডা নয়, সত্যিকারের অংশীদারিত্বের উপর নির্মিত হতে হবে।’
প্রসঙ্গত, এবছর দু’দিনের জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এসসিও-এর ২৩তম সম্মেলন। প্রথমে ভারতের হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানে যাওয়ার জল্পনা শোনা গিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এই সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানানো হয়। এদিকে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) আমন্ত্রণে নৈশভোজেও যোগ দেন জয়শংকর। সেখানে শাহবাজের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায় তাঁকে। এর বাইরে দুদেশের মধ্যে কোনও দ্বিপাক্ষিক আদানপ্রদান হয়নি বলেই বিদেশমন্ত্রক সূত্রের খবর। যদিও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কোনও সম্ভাবনা নেই তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল নয়াদিল্লি।

